Parasyte part 1 Movie
![]() |
| Parasyte Part 1 |
মুভির শুরুতে আমরা অদ্ভুত কিছু প্রাণী দেখতে পাই। তারা সমুদ্রে নিচে থেকে শহরের দিকে এগিয়ে আসছে। এই অদ্ভুত প্রাণীদের নাম দেওয়া হয়েছে প্যারাসাইট। এই প্যারাসাইট এর মধ্যে একটি একজন মানুষের কানের ভিতরে ডুকে যায়। মানুষটি প্রথমে কিছু সময় ছটফট করে। তারপর আগের মতো স্বাভাবিক ভাবে সে ঘুমিয়ে পরে।
সেইদিন রাতে এই মুভির প্রধান চরিত্র সিনচি কে দেখানো হয়। সিনচি র কাছে একটি প্যারাসাইট আসে। কিন্তু তার কানে হ্যাডফোন থাকায় সেটি তার কান দিয়ে প্রবেশ করতে পারে না। বরং সেটি তার নাক দিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। সিনচি ঘুমের মধ্যে বুঝে যায় এবং তাকে সাধারণ কোন পোঁকা ভেবে পাশের দেয়াল এ ছুঁড়ে মারে।
এরপর সে প্যারাসাইট টি মারার চেষ্টা করে। তখন প্যারাসাইট টি তার হাতে কাঁমড় দিয়ে ছিদ্র করে এবং সেই ছিদ্র দিয়ে হাতের ভিতরে প্রবেশ করে। সিনচি বুদ্ধিমান ছিল। তাই একটি দড়ি দিয়ে তার হাত বেঁধে ফেলে। যাতে প্যারাসাইট উপরে উঠতে না পারে। তখন তার মা তার ঘরে আসে। তারপর তার মা তার হাত দেখে। তবে সেখানে প্যারাসাইট প্রবেশ এর কোন চিহ্ন পায় না। কিন্তু পরেরদিন থেকে সিনচির সেই হাত অদ্ভুত ভাবে পরিবর্তন হতে থাকে।
এরপর দৃশ্য পরিবর্তন হয় এবং আমরা সেই মানুষটিকে দেখতে পাই। যাকে গতরাতে প্যারাসাইট আক্রমণ করেছিল। সে তার স্ত্রীর সামনে গিয়ে দাঁড়ায় এবং মাথাটি ফুলের মতো খুলে ফেলে। তারপর সেই ভয়ঙ্কর প্যারাসাইট টি এক কাঁমড় এ তার স্ত্রীর মাথা খেয়ে ফেলে।
হ্যালো, বন্ধুরা। আপনাদের সবাই কে আমাদের চ্যানেল এ স্বাগতম। আজকে আমরা জাপানি মুভি প্যারাসাইট পর্ব ১ এর এক্সপ্লানেশন করছি। চলুন এক্সপ্লানেশন এ ফিরে যাই।
তারপরের দিন সিনচি স্কুলে যায়। সিনচির গার্লফ্রেন্ড তার ভিতরে কিছু পরিবর্তন দেখতে পায় এবং সিনচি বুঝতে পারে তার সেই হাতে অদ্ভুত কিছু শক্তি চলে এসেছে। সে বাড়িতে ফিরে আসে আর তার হাত টি কেঁটে ফেলার চেষ্টা করে। তখন আমরা তার হাতের ভিতরে থাকা অদ্ভুত প্যারাসাইট টিকে দেখতে পাই। এই প্যারাসাইট টি সিনচির সাথে কথা বলে এবং তার নাম ছিল মিকি। যেহেতু সিনচি আক্রমণের সময় তার হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে দিয়েছিল। তাই মিকি বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারে নি।
মিকি শুধু সিনচির সেই হাত টি নিয়ন্ত্রণ করছিল। মিকি সিনচি কে অনুরোধ করছিল, যাতে সে তার সেই হাতটি না কেঁটে ফেলে। কারণ মিকি কখনো তার কোন ক্ষতি করবে না। এরপর তারা দুইজন বন্ধু হয়ে যায়। মিকি সিনচির বই পড়ছিল এবং তার ল্যাপটপ ব্যবহার করছিল। যাতে সে মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে পারে।
অন্যদিকে অন্যান্য প্যারাসাইট রা মানুষ মেরে খাচ্ছিল। পরেরদিন মিকি সিনচি কে একটি রেস্টুরেন্ট এর ভিতরে নিয়ে যায়। কারণ সেখানে কিছু প্যারাসাইট ছিল। প্যারাসাইট দের আশেপাশে কোন প্যারাসাইট থাকলে সেটা তারা বুঝতে পারত। রেস্টুরেন্ট এর ভিতরে প্যারাসাইট রা মানুষ মেরে খাচ্ছিল। তারা সিনচি কে দেখে ফেলে। তবে তারা ভাবে সে হয়ত তাদের মতোই।
তাই তাদের মধ্যে একজন সিনচি কে মানুষের মাংস খেতে দেয়। কিন্তু যখন প্যারাসাইট টি বুঝতে পারে সিনচি সম্পূর্ণ ভাবে তাদের মতো না। তখন সে সিনচি কে খাওয়ার জন্য এগিয়ে আসে। সেই সময় মিকি তাকে রক্ষা করে এবং সেই প্যারাসাইট টিকে মেরে ফেলে।
এইদিকে সম্পূর্ণ শহরে প্যারাসাইট মানুষ মারছিল। তবে সরকার বুঝতে পারছিল না এই প্যারাসাইট গুলো কি করে মারা যাচ্ছে। নিজের রুমে শুয়ে সিনচি মিকি কে প্রশ্ন করে, "তুমি কেন তোমার সাথী দের মানুষদের মারতে বারণ করছো না"? জবাবে মিকি বলে, "মানুষও তো পশু-পাখি খায়। মানুষের খাদ্য যেমন পশু-পাখি তেমনি প্যারাসাইট এর খাদ্য মানুষ"। পরেরদিন ক্লাসে মিকি বুঝতে পারে তার আশেপাশে একটি প্যারাসাইট রয়েছে এবং সে সেটি সিনচি কে জানায়।
সিনচি জেনে অবাক হয় কারণ অন্য প্যারাসাইট টি তার ক্লাসের শিক্ষিকা ছিল। সেই শিক্ষিকা বুঝে ফেলে সিনচির মধ্যে একটি প্যারাসাইট রয়েছে। ক্লাস শেষ করে শিক্ষিকা সিনচি কে বলে, "তোমার আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ আমি মানুষদের খাই না। মানুষ শুধু মানুষদের মধ্যে থেকে তাদের জীবনযাপন এর পদ্ধতি জানার চেষ্টা করছিল'। শিক্ষিকা তার কথার প্রমাণ দেওয়ার জন্য তার সাথে আরো দুইজন প্যারাসাইট এর পরিচয় করায়। তাদের ভিতরে একজন ছিলেন পুলিশ অফিসার এবং অপর জন তার ছাত্র।
আপনারা শুনে একটু অবাক হবেন যে, শিক্ষিকা ভিতরে থাকা প্যারাসাইট টি পুলিশ অফিসারের ভিতরে থাকা প্যারাসাইট এর স্ত্রী। খুব শীঘ্রই তাদের সন্তান হতে চলেছে এবং সেই সন্তানটি একটি নরমাল মানুষ হবে। তাই সেই শিক্ষিকা চাচ্ছিল তারা মানুষের সাথে বসবাস করবে। তারপর শিক্ষিকা সিনচি কে বলে উঠে, "সে যদি চায় তাহলে সে তাদের দলে যোগ দিতে পারে। কারণ তারা মানুষ কে মেরে মাংস খায় না। তবে মাঝে মধ্যে গুপন এ তারা কিছু মাংস খাবে"। তখন সিনচি তাদের প্রস্তাবে রাজি হয় না।
তার পরেরদিন সেই পুলিশ অফিসার সিনচির কাছে আসে। কারণ সে জানতে পারে সিনচি আর মিকি মিলে রেস্টুরেন্ট এ থাকা প্যারাসাইট মেরে ফেলেছিল। সেইজন্য পুলিশ অফিসার সিনচি কে মারার জন্য এসেছে। মিকি এটি বুঝে যায় আর সিনচি কে সতর্ক করে দেয়। পুলিশ অফিসার তাদের উপরে আক্রমণ করলে মিকি তার সাথে লড়াই করে এবং পুলিশ অফিসার কে মেরে ফেলে। কিন্তু দেখা যায় পুলিশ অফিসারের মধ্যে থাকা প্যারাসাইট টি তখনো জীবিত আছে। সে পুলিশ অফিসের দেহ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় থাকা একটি মহিলার শরীরে আশ্রয় নেয়।
সেই মহিলাটি সিনচির মা ছিল। সে সিনচি কে মারার জন্য তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। মিকি তার উপরে আক্রমণ করতে চাইলে সিনকি তাকে বলে, "খবরদার তুমি আমার মাকে আঘাত করবে না। তাহলে আমি তোমাকে কেঁটে ফেলব"। কিন্তু দেখা যায় অন্য প্যারাসাইট এর মতো সিনচির মায়ের মাথা খুলে যায়। সে সিনচি কে আঘাত করে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। মিকি দেখে সিনচির অনেক রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
পরেরদিন সে আবার সুস্থ হয়ে যায়। তখন মিকি স্বীকার করে, "সিনচির জীবন বাঁচানোর জন্য মিকির শরীরের কোষ তার শরীর এ দিতে হয়েছে। তাই তার সম্পূর্ণ শরীর এ মিকির কোষ রয়েছে এবং সে অন্যদের মতো আক্রান্ত"। তবে ভালো কথা হলোঃ মিকি বাকি প্যারাসাইট দের মতো খারাপ না। তারপর সিনচি ও মিকি মিলে তার মাকে খুঁজতে বের হয়।
অন্যদিকে সরকার জেনে গিয়েছে এই শহরে কিছু প্যারাসাইট এসেছে এবং তারা এই হত্যার তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। সিনচি যে কোন মূল্যে তার মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। কারণ এই পৃথিবীতে তার মা ছাড়া তার আপন কেউ নেই। পাশাপাশি সে তার মাকে অনেক ভালোবাসত। সে তার মাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে সেই শিক্ষিকার সাথে দেখা করে। সে ধারণা করেছিল, যেহেতু তার মা সেই প্যারাসাইট দিয়ে আক্রান্ত হয়েছিল। যেটি দিয়ে সেই পুলিশ অফিসার আক্রান্ত হয়েছিল। তাই তার মা পুলিশ অফিসের বাড়িতে রয়েছে।
সিনচি শিক্ষিকার কাছে সেই পুলিশ অফিসারের বাড়ির ঠিকানা জানার জন্য গিয়েছিল। তবে শিক্ষিকা তাকে কিছু বলে না। তাই সে হতাশ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। তারপর মিকি সিনচি কে জানায়, "এখন থেকে দিনে তাকে ৪ ঘন্টা করে ঘুমাতে হবে। সেই সময় সে সিনচি কে কোন ভাবে সাহায্য করতে পারবে না"। যেহেতু এখন সিনচির মধ্যে মিকির কোষ রয়েছে। তাই তার ভিতরে সুপার হিউম্যান ক্ষমতা চলে এসেছে।
এইদিকে সিনচি বুদ্ধিমত্তার সাথে তদন্ত অফিসারদের প্যারাসাইট দের কথা জানিয়ে দেয়। এমনকি তার নিজের সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে দেয়। তারা তদন্ত করে জানতে পারে, "সরকারের মধ্যে থাকা অনেকই এই প্যারাসাইট এর পক্ষে রয়েছে"। অন্যদিকে শিক্ষিকার সাথে দেখা করার জন্য তার মা-বাবা আসে। তবে তারা জানত না তাদের মেয়ে এখন আর তাদের মেয়ে নেই। বরং তার ভিতরে প্যারাসাইট বসবাস করছে। শিক্ষিকার ভিতরে থাকা প্যারাসাইট তার মা-বাবা কে মেরে ফেলে।
তখন আমরা জানতে পারি, "এই প্যারাসাইট রা চাচ্ছিল না যাতে কোন ভাবে বাহিরের মানুষ জানতে পারে তাদের ভিতরে প্যারাসাইট রয়েছে। কারণ এর ফলে তাদের জীবনের ঝুঁকি হয়ে যাবে"। পরেরদিন স্কুলে সিনচি দেখে শিক্ষিকার সেই প্যারাসাইট ছাত্র তাদের আর্ট শিক্ষক হিসাবে যোগ দিয়েছে। সে সিনচির সাথে বন্ধুত্ব করার নাটক করছিল। ধীরে ধীরে সকল স্টুডেন্ট বুঝে যায় তাদের শিক্ষক একজন প্যারাসাইট। তাই সে সবার উপরে হামলা করে এবং অনেক স্টুডেন্ট কে মেরে ফেলে।
এরপর সে সিনচির গার্লফ্রেন্ড কে দেখতে পায়। সে সিনচির গার্লফ্রেন্ড কে মারতে এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন সিনচি সেখানে চলে আসে আর তার গার্লফ্রেন্ড কে বাঁচিয়ে সেখান থেকে নিয়ে আসে। অন্যদিকে শিক্ষিকা সেই বিল্ডিং বিস্ফোরণ করে দেয়। কারণ সে ভেবেছিল এর ফলে সেই আর্ট শিক্ষক এর পাশাপাশি কিছু খারাপ প্যারাসাইট মারা যাবে এবং সাক্ষী গুলো মারা যাবে।
কিন্তু এই বিস্ফোরণ এ আর্ট শিক্ষক এর ভিতরে থাকা প্যারাসাইট মারা যায় না। বরং তদন্তের জন্য আসা অফিসারদের সে মেরে ফেলে। এইদিকে সিনচি অন্য একটি ছাদে গিয়ে একটি তীড় এর সাহায্যে সেই প্যারাসাইট কে মেরে ফেলে। তারপর সিনচি আবার শিক্ষিকার কাছে পুলিশ অফিসারের ঠিকানা জানতে চায় এবং শিক্ষিকা তার ঠিকানা দিয়ে দেয়।
সিনচির ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়। সে সেই পুলিশ অফিসারের বাড়িতে ছিল। সে তার মাকে বুঝানোর চেষ্টা করে, "তার মা যাতে তার কাছে ফিরে আসে"। সে তার মাকে কোন ভাবে আঘাত করতে চাচ্ছিল না। এক সময় সে অনুধাবন করতে পারে তার মা অনেক আগে মারা গিয়েছে। এখন যে তার সামনে রয়েছে সে একটি প্যারাসাইট আর সে তার মায়ের দেহ নিয়ন্ত্রণ করছে।
তখন মিকির ঘুমানোর সময় চলে এসেছিল। তাই সিনচি কে একাই তার মায়ের সাথে লড়াই করতে হয়। তখন সিনচি কোন ভাবে তার মায়ের ভিতরে থাকা প্যারাসাইট এর গলা কেঁটে দেয়। তাই তার মায়ের সাথে সাথে সেই প্যারাসাইট টি মারা যায়।
তারপর আমরা দেখতে পাই সেই শহরের কমিশনার নির্বাচনে সেই একটি লোক জিতে যায়। যে প্যারাসাইট এর পক্ষে ছিল। অর্থাৎ সেই শহরের মেয়র এখন সম্পূর্ণ ভাবে প্যারাসাইট এর পক্ষে। সিনচি তার গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে হাসপাতালে যায়। তখন সে মিকি কে জানায়, "এখন থেকে সে এক এক করে সকল প্যারাসাইট কে মেরে ফেলবে"।
তখন আমরা দেখতে পাই, কেউ একজন তার উপরে নজর রাখছে। আসলে সে একজন গোয়েন্দা ছিল। সে সিনচির কিছু ছবি তুলে নেয়। এই মুভির প্রথম পর্ব এখানেই সমাপ্ত হয়।
প্রিয় বন্ধুরা, এই মুভির কষ্টের দৃশ্য হলোঃ একটি সন্তান একটি ভাইরাস এর কারণে তার মাকে মেরে ফেলে। ধন্যবাদ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার যদি গল্প নিয়ে বা গল্পের লেখক এর সম্পর্কে কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন। ধন্যবাদ।