এলাচি গাছ চাষের পদ্ধতি ও প্রকারভেদ।
![]() |
| এলাচি |
বন্ধুরা, এলাচি চাষ করার ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে ভারত প্রথম স্থানে রয়েছে। ভারতের কিরল, কর্নাটক, তামিল রাজ্য গুলো এলাচি তৈরির কারখানা বলা হয়। ভারতের খাবার এ এলাচির ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের ভিতরে অনেক এ জানে না। এই ছোট দানা কিভাবে চাষ করা হয়।
আমরা গ্যারান্টি সহ কারে বলতে পারি আপনারা এর গাছ এখনো দেখেন নি। এমনকি এটাও জানেন না যে, এই ছোট গাছ উৎপাদন করতে ৩ বছর লেগে যায়।
এলাচি র চাষ কিভাবে করা হয়?
এলাচি অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। যার ব্যবহার খাবার এবং কয়েক ধরনের ওষুধ এ করা হয়। আপনাদের বলে দেই, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের মতে, এলাচি ব্যবহার করে কয়েক ধরনের রোগ যেমনঃ আস্তমা, গ্যাস, কাঁশি, বাহাচি, পতরি এমনকি চুলকানির মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আজকের দিনে এলাচি চাষ করা কৃষকদের জন্য এটি লাভবান প্রমাণ হচ্ছে। কারণ এর বাজার মূল্য শুনে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। যা আমরা আপনাদের পরে বলব।
আগে জেনে নিন এলাচি গাছ ৫ থেকে ১০ ফিট এর হয়ে থাকে আর এটি কিছুটা এমন দেখতে হয়। আপনি যদি আগে এটি কোথাও দেখে থাকেন তাহলে আমাদের কমেন্ট করে বলুন।
এলাচি চাষের উত্তম মাটি কি?
বন্ধুরা, চাষের কথা বলি। তাহলে আপনাদের বলে দেই। এলাচি চাষ সাধারণত টপিক্যাল রেন ফরেস্ট এ করা হয়। কারণ এর চাষের জন্য যত দূর সম্ভব ছায়া আর সমুদ্রের বাতাসের প্রয়োজন হয়। যদি মাটির কথা বলা হয়। তাহলে এর চাষের জন্য লাল ও উর্বর মাটির প্রয়োজন হয়। যা ভারতের সাউথ এর দিকে পাওয়া যায়।
যদি এই ধরনের মাটি না পাওয়া যায়। তাহলে ভালো দেখা শোনার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মাটির উপরে এর চাষ করা যায়। এর সাথে মাটির পি.এস. লেভেল ৫ থেকে সাড়ে ৭ এর মধ্য থাকা প্রয়োজন। পি.এস. লেভের এর বিষয়ে আপনারা শ্রেণি কক্ষে পড়েছে থাকবেন। এর অর্থ মাটিতে কি পরিমাণ অম্ল ও ক্ষার রয়েছে। এই দুইটি মিলে মাটিকে উর্বর বানায়।
এলাচি চাষের জন্য উত্তম তাপমাত্রা কত?
এই গাছ শীতের সময় নিম্নে ১০ ডিগ্রী এবং গরমের সময় সর্বাধিক ৩৫ ডিগ্রীর ভিতরে ভালো জন্মায়। আপনারা জেনে অবাক হবেন। এই গাছের একটি বীজ থেকে ১০ থেকে ১২ বছর গাছ হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এই গাছের বীজ নার্সারিতে তৈরি করা হয়। নার্সারিতে প্রতিটি বীজ ১০ সেন্টিমিটার দূরে লাগানো হয়। এটি লাগানোর কাজ কৃষক বা তার সহকারীরা করে। এলাচির ১.২৫ কেজি বীজ কে ১ হেক্টর জমির ভিতরে লাগানো যায়।
বীজ লাগানোর আগে মাটি তৈরি করতে হয়। যার ভিতরে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুবর মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তারপর মাটিতে বীজ লাগিয়ে ভালো করে তার পরিচর্যা করা হয়। তারপর বীজ দের বড় হওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। বড় হওয়ার জন্য বীজ শুকনো ঘাস দিয়ে ডেকে দেওয়া হয়।
যখন গাছ সম্পূর্ণ ভাবে তৈরি হয়ে যায়, তখন তাকে জমির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে খেয়াল রাখার বিষয় হলোঃ এই গাছের বীজ সরাসরি জমিতে লাগালে সূর্যের তাপ এবং বৃষ্টি তাকে বড় হতে দিবে না। এই জন্য তাকে একটি নিয়ন্ত্রণাধীন ঘরে লাগিয়ে তাকে বাহিরের পরিবেশ এর সাথে খাপ-খাওয়ানোর জন্য তৈরি করা হয়।
এলাচি চাষের পদ্ধতি কি?
এলাচি গাছ লাগানোর কাজ ১ থেকে ২ মাস আগে থেকে করা হয়। এটি সাধারণত বৃষ্টির সময় লাগানো হয়। যেমন আমরা আপনাদের আগে বলেছি। এই গাছের উষ্ণ ভাব প্রয়োজন। তাই একে বৃষ্টির সময় লাগানো হয়। যাতে গাছের টিউবওয়েল এর জল কম লাগে আর এরা বৃষ্টির জলে উর্বর হয়ে যায়।
এখানে খেয়াল রাখার জিনিস হলোঃ গাছ জমিতে লাগানোর সময় প্রতিটি গাছের মধ্যে ৬০ সেন্টিমিটার দূরত্ব থাকা প্রয়োজন। তাই এমন করার জন্য গাছ লাগানোর জন্য জিগ-জ্যাগ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। আপনারা দেখছেন ছোট একটি এলাচি তৈরি করার জন্য কৃষক কত কষ্ট করে?
যদিও চাষ সারা বছর করা দরকার। তাই সারা বছর বৃষ্টির উপরে নির্ভর হওয়া ঠিক না। এই জন্য এর ভিতরে বিভিন্ন উপায়ে জল দেওয়া হয়। গাছ জমিতে লাগানোর সাথে সাথে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। তার সাথে গরমের সময় গাছে বেশি বেশি জল দিতে হয়। এই সময় উষ্ণতা বজায় রাখার জন্য গাছদের বিভিন্ন সময় জল দেওয়া হয়। এখন সেটা টিউবওয়েল থেকে হোক বা পাশের কোন নদী থেকে। এই ছিল গরমের সময়ের কথা। শীতের সময় এই গাছে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর জল দেওয়া হয়।
এলাচি গাছের জন্য কি কি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়?
এখান এখানে খেয়াল রাখা উচিত কীটনাশক সব সময় সঠিক মাত্রায় হওয়া প্রয়োজন। যদি বেশি হয় তাহলে গাছ মারা যাবে আর কম হলে কীটপতঙ্গ তাদের মেরে ফেলবে। এটি কৃষকদের জন্য অনেক বড় সমস্যা।
তাই তারা গাছ লাগানোর আগে প্রতিটি গাছের নিচে বা গর্তে ১০ কেজি করে পুরনো গুবর আর ১ কেজি বর্মি কম্পোজার খাদ দেওয়া হয়। যা এর জন্য সঠিক মাত্রায় সঠিক কীটনাশক মনে করা হয়। এর সাথে গাছে ২ থেকে ৩ বছর ধরে ঘুমের তেল পৃষ্ঠন লাগানো হয়। যার কারণে গাছের ভালো করে বৃদ্ধি হয়ে যায় আর গাছে এলাচি ধরে। এমন করতে করতে এলাচি গাছ তৈরি হয়ে যায়।
এলাচি চাষের উৎপাদন কেমন?
আপনাদের বলে দেই, ১ হেক্টর জমি থেকে ১৪০-১৫০ কেজি এলাচি পাওয়া যায়। এরপর কৃষক এলাচি বাজারে বিক্রি করে দেয়। এলাচির বাজারের মূল্য প্রতি কেজি ভারতের ২ হাজার রুপি। যার থেকে কৃষক জমি থেকে ২-৩ কেজি লাভ করে ফেলে।
এলাচির প্রকারভেদ কি কি?
এটা ছিল চাষের কথা। কিন্তু বন্ধুরা, আপনারা যদি একই ধরনের অর্থাৎ রঙ্গিন রং এর এলাচি দেখে থাকেন। তাহলে আপনাদের বলে দেই বিষয়টি এমন না। এলাচি প্রধানত দুই ধরনের হয়ে যায়। যাকে বড় ও ছোট এলাচি বলা হয়। ছোট এলাচি রঙ্গিন হয়ে থাকে। এটি সুগন্ধ যুক্ত হয়ে থাকে। তাই এর ব্যবহার কয়েক ধরনের খাবার এ হয়ে থাকে। মুখ তাজা, মিষ্টি, ওষুধ এবং বিভিন্ন পূজা- অর্চনায় এর ব্যবহার করা হয়।
এখন কথা বলি দ্বিতীয় ধরনের এলাচি অর্থাৎ কালো এলাচির। যাকে বড় এলাচি বলা যায়। বড় এলাচির ব্যবহার মশলা তৈরি করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি হালকা লাল বা কালো রং এর হয়ে থাকে। এই কালো এলাচির ভিতরে কাপুর এর মতো সুগন্ধ রয়েছে।
বন্ধুরা, এই ছিল এলাচি চাষের পদ্ধতি। আশা করি যা থেকে আপনি বুঝে গিয়েছেন কৃষকদের কাজ সহজ হয় না। এর ভিতরে পরিশ্রমের সাথে সাথে ধৈর্য অনেক প্রয়োজন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার যদি গল্প নিয়ে বা গল্পের লেখক এর সম্পর্কে কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন। ধন্যবাদ।