গল্পঃ বোঝা ২
লেখকঃ সাগর দে
পর্বঃ৮
.
#পর্বঃ৭ এরপর থেকে........
.
![]() |
| গল্পঃ বোঝা ২ |
দেখতে দেখতে অনেক সময় কেঁটে যায়। আরহী আর সাগর একে-অপরকে মাত্রাতিরিক্ত ভালোবেসে ফেলে।
.
কিন্তু তাদের মধ্যকার টাকার যে পার্থক্য সেটা যায় না। দেখতে দেখতে আরহী আর সাগর ১ম বর্ষ থেকে ৪র্থ বর্ষে উঠে যায়।
.
সাগর এখনো সেই বই পোকা রয়েছে। কিন্তু আরহী তার থেকে ঠিকই সময় বের করে নেয়। মাঝে মাঝে আরহী সাগরকে টেনে রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে যায়।
.
যদিও সব বিল আরহী নিজেই দেয়। তবুও লজ্জার কারণ এ মাঝে মাঝে সাগর যেতে চায় না।
.
অপর দিকে প্রথমের সাগরের বড় ভাই। তারপর সাগরের মেঝ ভাই বিয়ে করে নেয়।
.
একটা সময় সাগরের বড় বৌদির কোল আলো করে একটা মেয়ে সন্তান আসে। তারপর একটি ছেলে সন্তান আসে।
.
তার পাশাপাশি সাগরের মেঝ বৌদির কোল জুড়ে একটা ছেলে সন্তান আসে।
.
একদিকে পরিবার এর সদস্য বাড়তে থাকে। অন্যদিকে বাড়ির খরচ বাড়তে থাকে। যার ফলে পরিবার এ অশান্তি হতে থাকে।
.
কিছু দিন পর পর বাড়িতে ঝগড়া লাগতে থাকে। সাগরের দুই ভাই কিছু না বললেও সাগরের দুই বৌদি ঝগড়া করতে থাকে।
.
সাগর কোন কাজকর্ম ছাড়া সংসার বসে রয়েছে। তার উপরে পড়ালেখা চালানোর জন্য টাকা দিতে হয়।
.
এটা সাগরের দুই বৌদি মেনে নিতে পারে না। তাই তারা ঝগড়া করে। সাগর টিউশনি করার চেষ্টা করে কিন্তু পায় না।
.
টিউশনির পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ খুঁজে। কিন্তু সেটাও সাগর পায় না। মাঝে মাঝে সাগরের মা সাগর কে বলে উঠে.......
.
---সাগর।(সাগরের মা)
---হ্যাঁ, মা।(সাগর)
---পরিবারের অবস্থা তো দেখছিস। এই বার কিছু একটা কর।
---মা, তুমি তো জানো আমি কত চেষ্টা করছি। কিন্তু পাই না।
---একটু ভালো করে খুঁজ। তুই তো কত পড়ালেখা করিস। কয়েকটা টিউশনি তো করতে পারিস।
---এখানে এত মানুষ টিউশনি পড়ায়। আমি কাকে টিউশনি পড়াবো? ওরা তো আর স্যার ছেড়ে আমার কাছে আসবে না।
---তাহলে অন্য কাজ কর।
---অন্য কি কাজ করব?
---সব যদি বাড়ি থেকে বলে দেওয়া লাগে তাহলে এত পড়ালেখা করছো কেন?(বড় বৌদি)
---........(নিশ্চুপ)
---এরচেয়ে ভালো পড়ালেখা বন্ধ করে দাও। মাস গেলে সংসার এর কত গুলো টাকা বেঁচে যাবে।(মেঝ বৌদি)
---ঠিক বলেছিস। মাস গেলে ওর ভার্সিটিতে কত গুলো টাকা যায় আর খাওয়া-দাওয়ার খরচ না হয় বাদই দিলাম।
---আসলে তুমি কি জানো? একটা মানুষ যদি বসে বসে খেতে পারে তাহলে কাজ করে খেতে চায় না। ওর অভ্যাস হয়ে গিয়েছে বাবা-ভাই এর ঘাড়ে বসে খেতে। তাই এখন আর কাজ করতে চায় না।
---হ্যাঁ। ঠিক বলেছো।
.
কথা যখন উঠে এই ভাবেই সাগরের দুই বৌদি সাগর কে কথা শুনায়। তখন সাগর বা সাগরের মা কেউ কিছু বলতে পারে না।
.
প্রথম প্রথম যখন বলত তখন উল্টো সংসার এ আরো ঝামেলা গেলে যেতো। তাই এখন আর কিছু বলে না।
.
সব টা চুপ করে শুনে যায়। যদি কখনো সাগরের ভাইদের সামনে এই সব কথা বলে তাহলে তারা দুই একটা উত্তর দেয়। কিন্তু তারা তাদেরও ছাড় দেয় না।
.
অপর দিকে আরহী ৪র্থ বর্ষে উঠার সাথে সাথে ওর পরিবার ওকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। তখন আরহী বলে দেয়........
.
---মা-বাবা, তোমরা এখন আমাকে একদম বিয়ের কথা বলবে না।(আরহী)
---কেন? তুই বিয়ে করবি না?(আরহীর মা)
---করব। কিন্তু এখন না।
---তাহলে কখন করবি?(আরহীর বাবা)
---আগে আমি আমার পড়ালেখা শেষ করব। নিজের পায়ে দাঁড়াবো। তারপর বিয়ে করব।
---বিয়ের সাথে পড়ালেখা শেষ করার কি সম্পর্ক?
---অনেক সম্পর্ক আছে। তোমরা বুঝবে না।
---আমরা তো তোকে এমন বাড়িতেই বিয়ে দিবো যেখানে তুই বিয়ের পরেও পড়ালেখা করতে পারবি।
---আমি আমার পড়ালেখা শেষ না করে বিয়ে করব না। মানে না।
.
আরহীর থেকে কয়েক বার তার মা-বাবা এমন উত্তর পেয়ে তারা একটা সময় আরহীকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
.
সাগর ও আরহীর জীবনে এত সমস্যা থাকার পরেও তারা যখন একে-অপরের সামনে আসে তখন হাসি মুখে থাকার চেষ্টা করে।
.
কিন্তু একে-অপরের কষ্ট, সমস্যা তারা ঠিকই বুঝতে পারে। একদিকে সাগর পড়ালেখা চালিয়ে যায় আর অপর দিকে সাগর একটা চাকরি খুঁজতে লেগে পরে।
.
কিন্তু এই দুনিয়ায় সব কিছু পাওয়া গেলেও একটা চাকরি পাওয়া অনেক কঠিন।
.
তাই সাগর চাকরি খুঁজে পায় না। একদিন আরহী সাগরের পাশে বসে বলে উঠে........
.
---কি ব্যাপার? আজকে তোমাদের এত টা হতাশ লাগছে কেন?(আরহী)
---কিছু ভালো লাগছে না।(সাগর)
---কেন?
---কতদিন ধরে একটা চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।
---কেন হচ্ছে না?
---কেউ বলে পড়ালেখা শেষ হওয়া না পর্যন্ত চাকরি দিবে না। আবার কেউ বলে তোমার জি.পি.এ ভালো না।
---তোমার প্রতিটা পরীক্ষায় জি.পি.এ-৫ করে আছে। তবুও বলছে জি.পি.এ ভালো না?(অবাক হয়ে)
---হ্যাঁ।(তাচ্ছিল্য হাসি হেঁসে)
---ওরা অন্ধ নাকি অন্য কিছু?
---অন্ধ না তবে অন্য কিছু ঠিকই।
---মানে?
---মানে চাকরি করতে গেলে ওরা কি খুঁজে সেটা আমি ভালো করেই জানি।
---কি খুঁজে?
---মামাদের।
---মামাদের মানে?
---মানে টাকা।
---অহ!
---হ্যাঁ। ওরা সবাই চায় ঘুষ। আমি যদি ওদের চাহিদা অনুসারে ঘুষ দিতে পারি তাহলে আমার চাকরিও হয়ে যাবে।
---অহ!আচ্ছা।
---হ্যাঁ। কিন্তু আমার তো ওই সামর্থ্য নাই। তাই চাকরিও হয় না।
---তুমি হতাশ হয়ে পরিও না। দেখবে ঠিক একটা উপায় বের হয়ে আসবে।
---আমি হতাশ হচ্ছি না। তবে হাসি পাচ্ছি।
---কেন?
---নিজের এই ভাগ্যের উপরে হাসি পাচ্ছে।
---অহ!
.
তারপর আর সাগর আরহীকে কিছু বলে না। শুধু একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। অপর দিকে আরহী ক্লান্ত চোখে সাগরের দিকে তাকিয়ে থাকে।
.
#চলবে

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার যদি গল্প নিয়ে বা গল্পের লেখক এর সম্পর্কে কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন। ধন্যবাদ।