গল্পঃ বোঝা ২(পর্বঃ১)

গল্পঃ বোঝা ২

লেখকঃ সাগর দে

পর্বঃ১

গল্পঃ বোঝা ২(পর্বঃ১)



---সাগর, এই ভাবে আর কত দিন?(সাগরের বাবা)

---কি কত দিন,বাবা?(সাগর)

---এই ভাবে আর কত দিন তুই আমাদের ঘাড়ের উপরে বসে খাবি?

---.......(নিশ্চুপ)

---সেই ছোট থেকে তোর পিছনে টাকা খরচ করে তোকে পড়ালেখা করিয়েছি। তোকে এত বড় করেছি। তারপরেও তুই আমাদের ঘাড়ে #বোঝা হয়ে রয়েছিস। 

---.......(নিশ্চুপ)

---এই ভাবে আর কত দিন তুই আমাদের ঘাড়ে #বোঝা হয়ে থাকবি? এই বার তো কিছু একটা কর।

---আমি একটা চাকরির জন্য চেষ্টা করছি তো, বাবা।(মাথা নিচু করে)

---কি রকম চেষ্টা করছিস যে তোর চাকরি হচ্ছে না?

---.......(নিশ্চুপ)

---তোর বড় ভাই দের দিকে তাকিয়ে দেখ। তোর মতো ওরা পড়ালেখা করে নি। তবুও কিছু একটা করে খাচ্ছে আর তুই?

---বাবা, বড় দাদা রা যা করে খাচ্ছে সেই গুলো তো আর আমি করতে পারব না।

---কেন পারবি না?

---উনারা রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি র কাজ করে। আমি এত পড়ালেখা করে কি এই সব কাজ করতে পারব?

---কেন পারবি না? যারা রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি কাজ করে তারা কি মানুষ না?

---আমি এত পড়ালেখা করে যদি রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রির কাজ করি তাহলে লোকে কি বলবে?

---অহ! বুঝছি। লজ্জা লাগছে তোর এখন তাই না? পড়ালেখা করে তুমি অনেক বড় লাট সাহেব হয়ে গিয়েছো?(চিৎকার করে)

---বাবা, বিষয় টা তেমন না।

---চুপ। একদম চুপ। তুই আর একটা কথা ও বলবি না।

---বাবা, তুমি এত উত্তেজিত হচ্ছো কেন? নিজেকে শান্ত করো।(সাগরের বড় ভাই)

---শান্ত করব? শুনছি না ওই কি বলছে?

---বাবা, ও ছোট মানুষ। কি বলতে কি বলে ফেলেছে। এই নিয়ে তুমি এত ভেবো না তো।(সাগরের মেঝ ভাই)

---ছোট? তুই ওকে ছোট বলছিস? পড়ালেখা শেষ করে ফেলেছে আর তুই এখনো ওকে ছোট বলছিস?

---.......(নিশ্চুপ)

---এত গুলো বছর আমি ওকে এই কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রির কাজ করে খায়িয়েছি, বড় করেছি আর এখন একটু পড়ালেখা শিখে ওই বলে কি না এই সব করতে ওর লজ্জা করে।

---বাবা, তুমি আমা.......

---সাগর, বাবা এখন রেগে আছে। তুই এখন এখান থেকে চলে যা।

---হ্যাঁ, সাগর। বড় ভাই যা বলছে সেটা শুন। তুই এখন একটু বাহিরে থেকে ঘুরে আয়।

.

সাগর তার বড় দুই ভাই এর কথা অমান্য করতে পারল না। তাই সে মাথা নিচু করে সেখান থেকে বের হয়ে গেল।

.

সাগর যাওয়ার সময় শুনতে পেল তার বাবা তাকে উদ্দেশ্য করে অনেক টা চিৎকার করে বলছে........

.

---ওর কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি কাজ করতে লজ্জা করে আর এই ভাবে যে আমার ঘাড়ে #বোঝা হয়ে গিলছে তাতে ওর লজ্জা করে না?

.

সাগরের কানে তার বাবার কথা গুলো গুলো স্পষ্ট ভাবে এসে ডুকে। কিন্তু ও অসহায়। 

.

তিতা হলেও ওর বাবা সত্য কথা বলছে। কারণ সাগর সত্যিই এখান তাদের ঘাড়ের #বোঝা হয়ে গিয়েছে।

.

সেই ছোট থেকে সাগরের বাবা সাগর কে পড়ালেখা করিয়েছে। এখন সাগরের পড়ালেখা শেষ হয়েছে দুই বছর হয়ে আসছে।

.

তবুও ওকে কোন একটা চাকরি পাচ্ছে না। বাসায় বেকার হয়ে বসে রয়েছে।

.

সাগর বাড়ি থেকে বেরিয়ে তার বাবার কথা গুলো ভাবতে ভাবতে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে লাগল।

.

সে হেঁটে হেঁটে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে তার কিছুই সাগর জানে না। নিজের মতো করে শুধু হেঁটে যাচ্ছে।

.

হাঁটতে হাঁটতে কখন যে সাগরের চোখের কোণে জল চলে এসেছে সেটা ও নিজেও জানে না।

.

সাগর আরো কিছু পথ হেঁটে যাওয়ার পরে কেউ একজন তার সামনে এসে দাঁড়ায়। সাগর মাথা উঁচু করে তার দিকে তাকাতে সে বলে উঠে........

.

---এ কি, সাগর? তোমার চোখে জল কেন?(আরহী)

---কৈ? কিছু না তো।(সাগর)

---আমি স্পষ্ট দেখতে পারছি তোমার চোখের কোণে জল।

---হ্যাঁ, মনে পরেছে। রাস্তা দিয়ে আসার সময় ময়লা উঁড়ে এসেছে।

---এখন?(অবাক হয়ে)

---হ্যাঁ। এখন নয় তো কখন?

---বৃষ্টির জন্য রাস্তায় এক টা ময়লা নেই আর তুমি বলছো রাস্তা থেকে ময়লা এসে পরছে?

---রাস্তা ময়লা না তো। গাড়ির ময়লা।

---সাগর, তুমি সেটা পারো না সেটা করো কেন?

---আমি কি পারি না আর কি করি?

---এই যে মিথ্যা কথা বলতে পারো না অথচ আমাকে মিথ্যা কথা বলার চেষ্টা করছো।

---কৈ না তো।

---সাগর, তোমাকে আমি তোমার চেয়ে ভালো করে চিনি। তাই এই সব অন্তত আমার সাথে করিও না।

---.......(নিশ্চুপ)

---এখন তুমি কি আমাকে বলবে তোমার কি হয়েছে?

---আরে বাদ দাও তো ওই সব কথা। এখন বলো ওই দিকে কোথায় যাচ্ছিলে?

---তোমার কাছেই যাচ্ছিলাম।

---হঠাৎ আমার কাছে কেন?

---এমনি। বাসায় বসে বসে বোর হচ্ছিলাম। তাই ভাবলাম তোমার সাথে ঘুরে আসি।

---ঠিক আছে। চলো। তাহলে ঘুরে আসি।

.

তারপর সাগর সব কিছু ভুলে গিয়ে আরহীকে সাথে করে নিয়ে নদীর পাড়ের দিকে হাঁটা দেয়।

.

অন্যদিকে সাগর বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সাগরের বড় দুই ভাই অনেক কষ্টে সাগরের বাবা কে শান্ত করে।

.

কিছু সময় পর সাগরের মা সাগরের বাবার সামনে গিয়ে বলে উঠে........

.

---এখন ছেলেটার সাথে এমন না করলে হতো না?(সাগরের মা)

---.......(সাগরের বাবা। নিশ্চুপ)

---ছেলেটা মাত্র এসেছিল বাসায়। যদি তোমার কিছু বলারই থাকত তাহলে ওকে অন্তত খাবার টা খেতে দিতে। তারপর না হয় যা বলার বলতে।

---.......(নিশ্চুপ)

---আহ্! মা, এই সব নিয়ে এখন আর কথা বলো না তো।

---হ্যাঁ, মা। এখন আর এই সব নিয়ে কথা বলিও না। বাবা, যদি আবার রেগে যায় তাহলে তাকে সামলাতে কষ্ট হয়ে যাবে।

---তোরা আমার কষ্ট কি বুঝবি? না খেয়ে তো রইল আমার ছেলেটা। আমি বুঝি আমার কেমন লাগছে।

.

সাগরের মা এই সব কথা বলে শাড়ির আঁচল মুখের ভিতরে ডুকিয়ে কান্না করতে করতে তার ঘরের দিকে চলে গেল।

.

চলবে

.

বোঝা প্রথম সিজন এর লিংকঃ


https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=737912260100219&id=434637807094334

মন্তব্যসমূহ