গল্পঃ বোঝা ২ (পর্বঃ৬)

 গল্পঃ বোঝা ২

লেখকঃ সাগর দে

পর্বঃ৬

.

#পর্বঃ৫ এরপর থেকে........

.

গল্পঃ বোঝা ২



আরহী বাসা যাওয়ার পর থেকে সাগর কে নিয়ে ভাবতে থাকে আর বিড়বিড় করে বলতে থাকে........

.

---আমাকে কি করা উচিত? সাগর এর যে অবস্থা এখন ওর সাথে স্কুল ছাড়া আর কোন সময় কথা বলার সুযোগ নেই। কিন্তু আমি তো ওর সাথে কথা না বলে থাকতে পারব না। কি করি? কিভাবে ওর সাথে কথা বলা যায়?

.

আরহী সারাক্ষণ এই সব নিয়ে ভাবতে শুরু করে দেয়। ভাবতে ভাবতে এক সময় রাত হয়ে যায়। তখন আরহীর মাথায় একটা বুদ্ধি আসে আর সে বলে উঠে.........

.

---পেয়েছি। আমি বুদ্ধি পেয়ে গিয়েছি। সাগর, এর মোবাইল নেই তো কি হয়েছে? আমি ওকে একটা মোবাইল কিনে দিবো। তাহলেই আমরা সব সময় কথা বলতে পারব। হ্যাঁ, আমি এটাই করব।

.

আরহী এই সব বলে খুশি তে নাচতে থাকে আর সাগরের জন্য একটা মোবাইল কেনার জন্য বুদ্ধি বের করতে থাকে।

.

দেখতে দেখতে সময় কেঁটে যায়। পরের দিন আরহী তার বাবার কাছে একটা নতুন মোবাইল এর আবদার করে।

.

আরহী ছিল বড়লোক এর মেয়ে। তাই রাত হতে না হতেই ওর সেই আবদার তার বাবা পূরণ করে দেয়।

.

পরেরদিন সকাল হতে না হতে আরহী তৈরি হয়ে মোবাইল ব্যাগ এর ভিতরে ডুকিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্য রনা দেয়।

.

তারপর ভার্সিটিতে সাগর এর আসার অপেক্ষায় বসে থাকে। দেখতে দেখতে সময় পার হয়।

.

সাগর ভার্সিটিতে আসে। আরহী সাগর কে নিয়ে একটা নিরিবিলি জায়গায় চলে যায়।

.

---তুমি আমাকে এখানে নিয়ে আসলে কেন?(সাগর)

---তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।(আরহী)

---কি এমন কথা আছে যা সবার সামনে বলা যেত না?

---আছে আছে।

---ঠিক আছে। বলো দেখি তোমার কি কথা আছে।

.

তারপর আরহী তার ব্যাগ এর ভিতর থেকে মোবাইল এর বাক্স বের করে সাগরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে উঠে.........

.

---এটা তোমার জন্য।

---কি আছে এখানে?

---খুলে দেখো।

---না। তুমি বলো।

---না না। তুমি নিজে খুলে দেখো।

---তুমি বললে বল না হলে আমি চলে যাবো।

---বলছি বলছি। এখানে একটা ট্রাস মোবাইল আছে।

---মোবাইল?(অবাক হয়ে)

---হ্যাঁ।

---তা তুমি বাক্স টা আমার দিকে এগিয়ে দিচ্ছো কেন?

---তুমি বুঝতে পারছো না কেন?

---না বললে বুঝব কি করে?

---আমি এটা তোমাকে দিচ্ছি।

---.......(নিশ্চুপ। অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে)

---তোমার জন্য কালকে আমি এই মোবাইল কিনেছি।

---.......(নিশ্চুপ)

---কি হলো? এই ভাবে তাকিয়ে রয়েছো কেন?

---দয়া করছো?

---দয়া করছো মানে?

---মানে তুমি কি আমার উপরে দয়া করছো?

---দয়া করব কেন?

---এই যে আমার মোবাইল নেই দেখে তুমি নিজে থেকে একটা মোবাইল কিনে আমাকে দিচ্ছো। এটা দয়া নয় তো কি?

---সাগর, তুমি আমাকে ভুল বুঝছো।

---হয়ত।

---তুমি বিশ্বাস করো আমি তোমার উপরে না দয়া করছি আর না তোমাকে ছোট করার চেষ্টা করছি।

---তাহলে তুমি এই মোবাইল কিনে এনে আমাকে দিচ্ছো কেন?

---যাতে তোমার সাথে কথা বলতে পারি।

---আমার সাথে তো তুমি ভার্সিটিতে কত কথা বলো।

---ভার্সিটিতে না। বাড়িতে যাওয়ার পর তোমার সাথে কথা বলার জন্য।

---তোমার আমার সাথে কি এমন কথা আছে যা বাড়িতে যাওয়ার পরে বলতে হবে?

---পড়ালেখা নিয়ে। যদি কখনো কোন পড়া না বুঝতে পারতাম তাহলে তোমার সাথে যাতে কথা বলতে পারি। তাই তোমাকে মোবাইল টা দিচ্ছি।(মাথা নিচু করে)

---তোমার যদি পড়ালেখা নিয়ে কোন সমস্যা থাকে তাহলে ভার্সিটিতে এসে বলবে। আমি তোমাকে বুঝিয়ে দিবো।

---তার মানে কি তুমি মোবাইল টা নিবে না?

---আশা করি তুমি চাও না আমাদের বন্ধুত্ব টা নষ্ট হয়ে যাক।

.

কথাটা শেষ করে সাগর আর আরহীর সামনে না দাঁড়িয়ে থেকে সেখান থেকে চলে গেল।

.

অন্যদিকে আরহী ঠিক বুঝে নিয়েছে সাগর এই কথাটা দিয়ে কি বুঝাতে চেয়েছে। তাই তো সে সাগর কে আটকানোর কোন রকম চেষ্টা করল না।

.

বরং ওর চলে যাওয়ার দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে রইল। কিছু সময় পর চোখের কোণ এর জল মুখে ব্যাগ এ আবার মোবাইল ডুকিয়ে সেখান থেকে ক্লাস এ চলে গেল।

.

ক্লাস এ যাওয়ার পর আবার সাগরের দিকে তাকিয়ে রইল। সাগর এর দিকে তাকাতেই ওর চোখে জল ভরে গেল।

.

তারপর থেকে আরহীর সাথে সাগর এর খুব অল্প কথা হয়েছে। কোন এক অজানা কারণ এ আরহী সাগরের সাথে আগের মতো বেশি কথা বলতে পারত না।

.

আর না সাগর নিজের থেকে আরহীর সাথে বেশি কথা বলত। ঠিক যেন তাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য রেখা কেউ টেনে দিয়েছে এমন একটা বিষয়।

.

এই ভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর একদিন আরহী যখন সাগর এর সাথে কথা বলছিল তখন সাগর বলে উঠল.........

.

---আরহী, এখনো তুমি আমার উপরে রেগে রয়েছো?(সাগর)

---কেন? রেগে থাকব কেন?(আরহী)

---সেইদিন তোমার গিফট টা না নেওয়ার কারণে।

---না। আমি তোমার উপরে রেগে নেই।

---জানো আরহী, আমার না কারো থেকে কিছু নিতে ভালো লাগে না। আমি যদি কষ্ট করে, কাজ করে একটা টাকা আয় করি তাহলে তার যে সুখ সেটা তোমাকে বলে বুঝাতে পারব না।

---......(নিশ্চুপ)

---আর রইল তোমার গিফট এর কথা। ওটা যদি আমি নিতাম তাহলে আমি নিজের কাছে সারা জীবন ছোট হয়ে থাকতাম। তাই তোমাকে সেইদিন ফিরিয়ে দিয়েছি।

---ভালো করেছো। আমি চাই না তুমি এমন কিছু করো যার ফলে সেই কাজের  অপরাধ বোধ সারা জীবন তুমি বয়ে বেড়াও।

---তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি আমার বিষয় টা বুঝতে পেরেছো।(মুচকি হেঁসে)

---যেভাবে তুমি সব টা বুঝিয়ে বলছো তারপর না বুঝে উপায় আছে?

.

কথাটা শেষ করে আরহী মুচকি হেঁসে উঠল। তার সাথে দুইজন এর মধ্যকার সেই অদৃশ্য দূরত্ব কোথায় হারিয়ে গেল।

.

চলবে

মন্তব্যসমূহ