গল্পঃ বোঝা ২
লেখকঃ সাগর দে
পর্বঃ১১
.
#পর্বঃ১০ এরপর থেকে.........
.
![]() |
| বোঝা ২ |
সাগর পিয়ন এর পিছনে পিছনে আলাদা একটা রুমে ডুকে পরল। সেখানে গিয়ে পিয়ন সাগরকে বলে উঠল........
.
---স্যার দের সাথে তোমার সব কথা হয়েছে?(পিয়ন)
---হ্যাঁ, হয়েছে।(সাগর)
---তারা কি বলেছে?
---বলেছে আপনার সাথে এসে কথা বলবে।
---অহ!আচ্ছা।
---তা আমার সাথে কি কথা বলতে বলেছে জানো?
---না।
---এই অফিস তো অনেক বড়। সেই সাথে শহরের সবচেয়ে নামকরা একটি অফিস।
---হ্যাঁ।
---এখানে যে একটা চাকরি পাবে তার সারা জীবনে আর কিছু প্রয়োজন নেই।
---জ্বী। জানি।
---এত নামি-দামী কোম্পানি হওয়ায় এখানে চাকরি পাওয়া সহজ না।
---তাহলে কি আমার চাকরি হবে না? আমার চাকরি টা অনেক বেশি দরকার।
---চাকরি হবে না বিষয় টা তেমন না।
---তাহলে?
---এই কোম্পানিতে চাকরি পেতে হলে তোমাকে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া আরো কিছু দিতে হবে।
---কি দিতে হবে?
---২০ লক্ষ টাকা।
---২০ লক্ষ টাকা?(অবাক হয়ে)
---হ্যাঁ। ভেবো না এটা তুমি চাকরি পাওয়ার জন্য ঘুষ দিচ্ছো। এটা হলো স্যারদের জন্য সামান্য একটা উপহার।
---বুঝেছি।
---যাক ভালো। তা কি সিদ্ধান্ত নিলে?
---কিছু না। আমি তাহলে আজকে আসি।(মুচকি হেঁসে)
---আসি মানে? চাকরি করবে না?
---এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য থাকলে আমি নিজেই একটা ব্যবসা শুরু করতাম।
.
সাগর এই কথা বলে মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে সেখান থেকে চলে গেল আর পিয়ন তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
.
সাগর সেই রুম থেকে বেরিয়ে কারো দিকে না তাকিয়ে সরাসরি অফিসের বাহিরে চলে গেল। তারপর অফিসের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল..........
.
---সবাই এক। বড়, ছোট কোম্পানি সব গুলো একা। কেউ ভালো না। সব খারাপ।
.
সাগর এই কথা বলে অফিসের থেকে মুখ ফিরিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাথা নিচু করে হাঁটতে লাগল।
.
দেখতে দেখতে সাগর বাড়িতে চলে আসল। সম্পূর্ণ রাস্তা সাগর মাথা নিচু করে হাঁটতে হাঁটতে বাড়িতে এসেছে।
.
সাগর এই ঘটনার কারণে অনেক হতাশ হয়ে পরেছে। কারণ তার যোগ্যতা অনুসারে এখানে তার চাকরি হওয়ার কথা ছিল।
.
তবে এই ভাবে এখান থেকেও রিজেক্ট হয়ে সে অনেক কষ্ট পেয়েছে। তাই গাড়ি নেওয়ার সাহস তার ভিতরে আসে নি।
.
সাগর বাড়িতে আসার পর তার মা তার সামনে এসে দাঁড়ায় আর জিজ্ঞাসা করে উঠে...........
.
---সাগর, তোর ইন্টার্ভিউ কেমন হলো?(সাগরের মা)
---........(সাগর। নিশ্চুপ)
---কিরে বল।
.
সাগর তার মায়ের মুখের দিকে এল পলক তাকিয়ে তার কথার উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে তার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।
.
সাগরের এমন ব্যবহার দেখে তার মা অবাক হয়ে যায় আর বলে উঠে..........
.
---আমার ছেলেটার হঠাৎ করে কি এমন হলো যার জন্য ওকে এমন দেখাচ্ছে?(চিন্তিত সুরে)
---......(নিশ্চুপ)
---ওর এমন করার কারণ বা কি আর ওর ইন্টার্ভিউর বা কি হলে কিছু তো বুঝতে পারছি না।
---কি আর হবে? নিশ্চয়ই আপনার গুণধর ছেলে আবার ইন্টার্ভিউ তে টিকে নি।(সাগরের বড় বৌদি)
---ইন্টার্ভিউ তে টিকা তো দূরের কথা। আমি ভাবছি অন্য কথা।(সাগরের মেঝ বৌদি)
---অন্য কি কথা ভাবছিস?
---ও কি ইন্টার্ভিউ দিতে গিয়েছিল নাকি না সেটা।
---তুমি দেখলে না সকালে তৈরি হয়ে গেল? তাহলে ও ইন্টার্ভিউ দিতে যাবে না কেন বলছো?
---দুই ভাইয়ের ঘাড়ে বসে খেতে পারলে কষ্ট করে খেতে চাইবে কে? তাই হয়ত যায় নি।
---........(নিশ্চুপ)
---আর রইল তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা। ওই সব ভাঁওতাবাজি। সব আমাদের কে দেখানোর জন্য নাটক।
---একদম ঠিক বলেছিস। ঘাড়ের উপরে বসে খেতে ওর জিহ্বা বড় হয়ে গিয়েছে।
---হ্যাঁ আর যদি ইন্টার্ভিউ দিতে যেত তাহলে এতক্ষণ লাগে নাকি ওর ফিরে আসতে? ইন্টার্ভিউ তো সেই দুপুর এ শেষ। এখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে।
---ঠিক বলেছিস। ওর যে কোন একটা বিহিত করতে হবে। না হলে ও এমনি করবে।
---হ্যাঁ, আমিও ভাবছি এর একটা বিহিত করব। আজকে আসুক ওর ভাই। ওর সাথে আমি পাকাপোক্ত ভাবে একটা বিহিত করব।
---শুধু তুই না। আমিও আমার টার সাথে আজকে রাতেই এই নিয়ে কথা বলব।
.
তারপর তারা দুইজন সাগরের বিরুদ্ধে তার ভাইদের কাছে কে কি বলবে সেটা ভাবতে লাগল আর সেই নিয়ে আলোচনা করতে লাগল।
.
অন্যদিকে সাগরের মা এই সব শুনতে না পেরে সেখান থেকে চলে গেল।
.
সাগর তার রুমে গিয়ে তার এই অভিশপ্ত জীবন নিয়ে ভাবতে লাগল। ভাবতে লাগল কেন তার জীবন এমন হয়ে গেল।
.
কিন্তু এর কোন উত্তর খুঁজে পেল না। যথারীতি সন্ধ্যার পর সাগরের দুই ভাই বাড়িতে আসল আর তাদের বউ তাদের সাথে সাগর কে নিয়ে ঝগড়া করতে লাগল।
.
সাগর সবটা কান খুলে শুনে তবে কিছু বলতে পারে না। একটা সময় তাদের ঝগড়া শেষ হয়ে যায়।
.
তারও অনেক টা সময় পর সাগরের বাবা সাগর কে খাবার টেবিলে ডাকে। সাগরের ইচ্ছা না থাকা সত্যেও সে খাবার খেতে যায়।
.
খাবার খাওয়ার মাঝে সাগরের বাবা সাগর কে জিজ্ঞাসা করে উঠে..........
.
---আজকে না তোমার একটা চাকরির ইন্টার্ভিউ ছিল?(সাগরের বাবা)
---হ্যাঁ, বাবা।(সাগর)
---তো কি হলো?
---চাকরি টা হবে না।
---তোর চাকরি হবে না কেন?(বড় ভাই)
---তোর তো কত ভালো রেজাল্ট তোর চাকরি হবে না কেন?(মেঝ ভাই)
---এখানকার সময় এ চাকরি পাওয়ার জন্য যোগ্যতা দেখে না।
---তাহলে কি দেখে?
---টাকা।
---টাকা?
---হ্যাঁ, টাকা। আমার ইন্টার্ভিউ নেওয়ার পরে তারা বলেছে চাকরিটা পেতে হলে তাদের ২০ লক্ষ টাকা দিতে হবে।
---এত টাকা?
---হ্যাঁ।
---তাই ভাবছি অন্য কোন জায়গায় চাকরি খুঁজব। দেখি পাই কিনা।
.
সাগরের কথা শুনে কেউ আর কোন উত্তর দিল না। কারণ উত্তর দেওয়ার মতো তাদের মুখে কোন ভাষাই নেই।
.
#চলবে

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার যদি গল্প নিয়ে বা গল্পের লেখক এর সম্পর্কে কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন। ধন্যবাদ।