গল্পঃ 2nd chance (শেষ পর্ব)

গল্পঃ 2nd chance

লেখকঃ সাগর দে

পর্বঃশেষ পর্ব

.

গল্পঃ 2nd chance (শেষ পর্ব)



#পর্বঃ৮ এরপর থেকে.......

.

কিছু সময় এর মধ্যেই আরহী সাগর এর চোখের আঁড়ালে চলে গেল। তারপর এই অল্প সময় এ ওর সাথে কি হয়ে গেল সাগর সেই সব হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে লাগল।

.

তখনি ওর ভাবনার মাঝে ওর বন্ধুরা এসে বাঁধা দেয় আর জিজ্ঞাসা করে উঠে.......

.

---সাগর, তুই আবার আরহীর সাথে কি করছিস রে?(জয়)

---কোথায়? আমি তো কিছু করি নি।(সাগর)

---তাহলে ও এই ভাবে দৌঁড়ে ভার্সিটির বাহিরে চলে গেল কেন?

---জানি না।

---সত্যি জানিস না নাকি বলতে চাচ্ছিস না?(রিয়াদ)

---সত্যি জানি না।

---সাগর, একটা কথা বল তো।(রাজু)

---কি কথা?

---তুই কি আরহীর সাথে সব ভুল বুঝাবুঝি মিটিয়ে নিয়েছিস?

---কৈ? না তো।

---তাহলে আরহী এত খুশি হয়ে রয়েছে কেন? দেখে তো মনে হলো খুশি তে পাগল হয়ে গিয়েছে।

---কি জানি।

---তুই যখন কিছু ই জানিস না। তাহলে ওই ভার্সিটিতে ডুকতে না ডুকতে ওকে টেনে ওই দিকে নিয়ে গিয়েছিলি কেন?

---জানি না।

.

সাগর এখনো একটু আগের কথা ভাবছে। তাই ওরা কি বলছে না বলছে সেই সব ভালো করে না শুনেই উত্তর দিয়ে দিচ্ছে।

.

---এই সাগর। তুই ঠিক আছিস তো?(হালকা করে ধাক্কা দিয়ে)

---হ্যাঁ হ্যাঁ। আমি ঠিক আছি।(স্বাভাবিক হয়ে)

---শুন সাগর। তোকে একটা কথা বলি।

---হ্যাঁ, বল।

---আরহীর সাথে যা হওয়ার হয়েছে। ওকে মাফ করে দিস।

---.......(নিশ্চুপ)

---এটা সত্যি যে আরহী শুভ র সাথে অভিনয় করেছে। কিন্তু শুভ সেইদিন যা বলছে সেই সব সত্যি না।

---........(নিশ্চুপ)

---তুই সেইদিন চলে যাওয়ার পরে আমাদের সামনে শুভ এই কথা স্বীকার করেছে।

---ওই সব টা করেছে শুধুমাত্র তোকে আর আরহী কে আলাদা করে দেওয়ার জন্য।

---.......(নিশ্চুপ)

---আমরা তোকে কথা টা আরো আগে বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তুই তো আরহীর কথা তুললেই চলে যেতে। তাই আর বলা হয় নি।

---এই সব আমাকে বলার কোন প্রয়োজন নেই।

---সাগর, তুই সব টা শুনেও আরহীর উপরে রাগ করে রয়েছিস?

---না।

---তাহলে এই ভাবে কথা বলছিস কেন?

---এই ভাবে কিভাবে?

---এই যে কি রকম রাগি রাগি ভাবে।

---আমি রাগি ভাবে কথা বলছি না।

---তাহলে হঠাৎ এই কথা বললি কেন?

---কারণ আমি ভালো করেই আরহী কে চিনি, জানি ওই কেমন মেয়ে। ওর মতো মেয়ে আর যাই হোক কখনো ফিজিক্যাল রিলেশন কারো সাথে করতে পারে না। কারণ ওর সেই সাহসই নেই।

---তাহলে তুই এত দিন এমন করলি কেন?

---সেটা তোরা বুঝবি না।

.

এই কথা বলে সাগর ওদের সামনে থেকে চলে গেল আর ওরা না বুঝে বোকার মতো সাগরের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।

.

দেখতে দেখতে অনেক টা সময় চলে গেল। আরহী বাসায় আসার সময় তার বাবা কে ফোন করে এখনি বাসায় আসতে বলেছে।

.

সেই মতো আরহীর বাবা সব কাজ ফেলে রেখে আরহী বাসায় পৌঁছানোর আগেই বাসায় গিয়ে আরহীর মায়ের সাথে ড্রয়িংরুম এ বসে আরহীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

.

আরহী খুশি খুশি মনে বাসায় গিয়ে তার মা-বাবা র পাশে বসে পরল আর বলে উঠল........

.

---বাবা, তুমি কি সাগর এর সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছো?(আরহী)

---হ্যাঁ। কিন্তু তোকে এই কথা কে বলল?(আরহীর বাবা)

---আজকে সাগর আমাকে বলল। ওর আর আমার বিয়ে নাকি ঠিক করা হয়েছে।

---তোর বাবা তো বিয়ে ঠিক করেছে কিন্তু এই বিয়ে শেষ পর্যন্ত হবে কিনা সন্দেহ।(আরহীর মা। চিন্তিত সুরে)

---কেন, মা? তুমি হঠাৎ এই কথা বললে কেন?

---কালকে রাতে তোর বাবা বলল সাগরের বাবা নাকি ফোন দিয়ে বলেছে সাগর তোকে বিয়ে করতে চায় না।

---........(নিশ্চুপ। কথাটা শুনে আরহী মন খারাপ করে বসে রইল)

---যদিও সাগরের বাবা সাগর কে বলে দিয়েছে তোকেই ওর বিয়ে করতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হয় কে জানে।

---.......(নিশ্চুপ)

---তোর বাবা কথাটা তোকে আগেই বলতে চেয়েছিল। সাগর কি বলে না বলে সেটা না জেনে তোকে বলতে আমিই বারণ করেছিলাম।

---......(নিশ্চুপ)

---জানি কথাটা তোর মন খারাপ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা আর কি করব বল? আমাদের দ্বারা যা সম্ভব হতো তা তো আমরা করলামই।

---.......(নিশ্চুপ)

---এখন তুই যদি সাগর কে নিজের স্বামী হিসাবে পেতে চাস তাহলে বাকি কাজ তোকেই করতে হবে।

---আমি কি করব?

---যেভাবে হোক সাগরের সাথে সব ভুল বুঝাবুঝি মিটিয়ে ওকে এই বিয়ে তে রাজি করাতে হবে।

---আমাকে এই টুকু একটা কাজ করতে হবে? তুমি চিন্তা করো না। সাগর কে আমি ঠিক রাজি করিয়ে নিবো। (হাসি মুখে)

---যাক। ভালো।

---তোমরা তাহলে সব কিছু প্রস্তুত করতে থাকো। আমি বরং আজকে থেকেই কাজে লেগে পরি।

.

এই কথা বলে আরহী বসা থেকে হাসি মুখে উঠে বাহিরের দিকে যেতে থাকে। তখন আরহীর বাবা তাকে পিছন থেকে ডেকে বলে উঠে.........

.

---আরহী, একটা কথা শুনে যা।

---হ্যাঁ, বাবা। বলো।

---যা করিস একটু সাবধানে করিস। যাতে হিতে বিপরীত না হয়ে যায়।

---ঠিক আছে, বাবা।

.

তারপর আরহী এই কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে আবার ভার্সিটির দিকে রনা দেয়।

.

দেখতে দেখতে আরহী ভার্সিটিতে এসে পরে। ওর চোখে মুখে স্পষ্ট খুশি র রেখা রয়েছে। আরহী যখন ভার্সিটিতে আসে তখন ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছিল।

.

তাই আরহী ক্লাসে বসে সাগরের দিকে চুপি-চুপি তাকিয়ে ওকে দেখতে থাকে। সাগর বিষয় টা লক্ষ করে কিন্তু কিছু বলে না।

.

সেইদিন রাতে আরহী সাগর এর মোবাইল এ একটা মেসেজ পাঠায় যেখানে লেখা ছিল......

.

---তোর থেকে আমি আমার 2nd chance আদায় করেই ছাড়ব।

.

মেসেজ টা দেখে কোন এক অজানা কারণ এ সাগরের মুখে হাসির রেখা ফু্ঁটে উঠে।

.

এরপর থেকে বিয়ের আগে পর্যন্ত প্রতিদিন ভার্সিটিতে আরহী সাগরের উপরে এই অলিখিত অত্যাচার চালিয়ে যেতে থাকে।

.

সাগরের সামনে এসে ওকে কিছু বলে না তবে সব সময় দূর থেকে তাকিয়ে থেকে ওকে যেন কথা বলে দেয়।

.

সাগর সব ই লক্ষ করে কিন্তু কখনো কিছু বলে না। দুইজন এর বন্ধু-বান্ধবীরা বুঝতে পারে ওদের ভিতরে আবার সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

.

সেই সাথে ওদের বিয়ের খবরও ওরা পেয়ে যায়। দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে আসে এবং বিয়ে হয়ে যায়।

.

তারপর ওদের দুইজন কে এক ঘরে রেখে ওদের বন্ধু-বান্ধবীরা চলে যায়। আরহী অনেক টা গর্বের সহিত সাগর কে বলে উঠে.......

.

---কি বলেছিলাম না আমার সাথে চ্যালেঞ্জ নিস না। তুই জিতে পারবি না। দেখলি তো কি করে আমি তোর জীবনে ডুকে গেলাম।(আরহী)

---.......(সাগর। নিশ্চুপ। মুচকি হাসি দিল)

---এই এই তুই এই ভাবে হাসছিস কেন?

---তোর কাণ্ড দেখে।

---কেন? আমি হাসির মতো কি করেছি?

---আমি তোকে ইচ্ছা করে আমার জীবনে 2nd chance দিলাম আর তুই কিনা বলছিস সব টা তোর ইচ্ছায় হয়েছে।

---ইম্ম! এখন চ্যালেঞ্জ এ হেরে গিয়েছে তো তাই কত কথা বলবে।

---হা হা হা।(সাগর শব্দ করে হেঁসে উঠে)

---এই শুন না। একটা সত্যি কথা বলবি?

---হ্যাঁ, বল। কি বলতে হবে?

---তুই কি সত্যি আমাকে তোর জীবনে 2nd chance দিয়েছিস?

---হ্যাঁ। দিয়েছি। কিন্তু.......

---কিন্তু কি?

---কিন্তু আমাকে ছেড়ে যদি কখনো চলে যাস তাহলে আমার হাতে মারা যাবি। কথাটা মনে রাখিস।

---তুই চিন্তা করিস না। এই জীবন থাকতে তোকে আমি কখনো ছেড়ে যাবো না।

---তাহলেই তোর জন্য মঙ্গল।

---হুম। এখন বল হোয়াট নেক্সট?

---তুই বল।

---কেন? তুই বলতে পারিস না?

---না। তবে করে দেখাতে পারি।

---কি করে দেখাবি?

---একটু পরেই দেখতে পারবি।

.

এই কথা বলে সাগর মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে আরহীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

.

সমাপ্ত

মন্তব্যসমূহ