গল্পঃ বোঝা ২ (পর্বঃ৭)

 গল্পঃ বোঝা ২

লেখকঃ সাগর দে

পর্বঃ৭

.

#পর্বঃ৬ এরপর থেকে........

.

বোঝা ২


দেখতে দেখতে সময় পার হয়ে গেল। সাগর আর আরহী একে-অপরের আরো বেশি কাছাকাছি চলে আসে।

.

দিনে দিনে আরহীর মনে সাগরের জন্য ভালোবাসা একটু একটু করে বাড়তে থাকে। অপর দিকে সাগরেও একই অবস্থা।

.

সে প্রকাশ না করলেও আরহী কে সে ভালোবাসতে শুরু করে দেয়। একটা মেয়ে সব সময় একটা ছেলের সাথে থাকলে তাদের ভিতরে ভালোবাসা হওয়া অস্বাভাবিক বিষয় না।

.

তাই সাগর শত চেষ্টা করেও নিজেকে আরহী থেকে আটকাতে পারে নি। দুইজন পরিবারের মধ্যে টাকার আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

.

সেটা সাগর জানার পরেও আরহীকে ভালোবাসা থেকে নিজেকে আটকাতে পারে নি।

.

সাগর কখনো আরহীর সামনে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ না করলেও আরহী সাগরের চোখ, চাল-চলন দেখে বুঝে নেয় সাগর ওকে ভালোবাসে।

.

তাই আরহী খুশি হয়ে সাগরের প্রপোজ করার অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু সাগর আরহী কে প্রপোজ করে না।

.

তাই আরহী এক বুক সাহস নিজের ভিতরে সঞ্চয় করে সাগর কে নিরিবিলি একটা জায়গায় নিয়ে বলে উঠে........

.

---তোর সমস্যা কি বল তো?(আরহী)

---আমার আবার কি সমস্যা হবে?(সাগর)

---তোর কি মনে হয় আমি কিছু বুঝি না?

---কি বুঝিস তুই?

---তোর মনে কি চলে সব আমি বুঝি।

---আআআআমার মমমনে আবার কি চলবে?(কেঁপে উঠে)

---তোর মন কে জিজ্ঞাসা কর। তাহলে উত্তর পেয়ে যাবি।

---পারব না।

---হয়েছে হয়েছে। আর ভাব করতে হবে না। এখন তাড়াতাড়ি বলে দে দেখি।(ভাব নিয়ে)

---কি বলব?

---তোর মনের কথা।

---আমার মনের কোন কথা?

---যে কথা তোর চোখে দেখলে বুঝা যায়।

---আমার মনে এমন কোন কথা নেই যা আমার চোখ দেখলে বুঝা যায়।

---আবার মিথ্যা কথা?(রেগে)

---কোথায় আমি মিথ্যা কথা বললাম?

---তুই জানিস না তোকে আমি তোর চেয়ে ভালো চিনি?

---হ্যাঁ, জানি তো।

---তাহলে আমার সাথে মিথ্যা কথা বলার চেষ্টা করছিস কেন?

---আমি কোন মিথ্যা কথা বলার চেষ্টা করছি না।

---অহ! তাই?

---হ্যাঁ।

---তাহলে আমি যে তোমার চোখে......(সাগরের দিকে এক পা এক পা করে এগিয়ে গিয়ে)

---আমার চোখে কি?( এক পা এক পা করে পিছনের দিকে যেতে যেতে)

---তোর চোখে.......

---আমার চোখে কি?

---তোর চোখে.......

---আরে বোইন তখন থেকে কি আমার চোখে আমার চোখে করছিস?

---ওই সালা, আমি তোর কোন জন্মের বোইন রে?(গলা চাপ দিয়ে ধরে)

---খকখক খকখক।(কাঁশি উঠেছে)

---বল, সালা। আমি তোর কোন জন্মের বোইন হই।

---ছাড় ছাড়। মরে গেলাম।

---মর তুই। তোকে আজকে আমি মেরেই ফেলব। তোর কত বড় সাহস তুই আমাকে বোইন বলিস।

---ভুল হয়ে গিয়েছে। ভুল হয়ে গিয়েছে। এই বার ছাড় না হলপ সত্যি মরে যাবো। আমি মরে গেলে কিন্তু তুই একা হয়ে যাবি।

.

সাগর আরহীর হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করতে করতে উক্ত কথা গুলো বলল আর ছটফট করতে লাগল।

.

কিছু সময় পর আরহী দেখে সাগর এর অবস্থা শোচনীয় হয়ে যাচ্ছে। তাই আরহী সাগর কে ছেড়ে দেয়।

.

সাগর আরহীর হাত থেকে ছাড়া পেয়ে বড় বড় শ্বাস নিতে নিতে আরহীর মুখের দিকে তাকায়। 

.

তখন ও দেখতে পায় আরহী ওর দিকে তাকিয়ে রাগে ফুঁসছে। তাই সাগর বলে উঠে........

.

---একটু বোইন বলেছি বলে এত রাগ?

---হুম।

---বোইন বলেছি বলে কি হয়েছে?

---তুই আর একবার আমাকে বোইন বলে ডাক। তারপর বুঝাবো কি হয়েছে।

---না না, বাবা। আমি আর তোকে বোইন বলে ডাকব না।

---কথাটা জানি মনে থাকে।

---হ্যাঁ, থাকবে।

---হারামজাদা, দুইদিন পরে আমাকে বউ বানাবে আর আজকে আসছে বোইন ডাকতে।

---খকখক খকখক। তুই এই সব কি বলছিস?(কাঁশতে কাঁশতে)

---কেন? তোর কান নাই? কি বলেছি শুনতে পাস নি?

---তুই আমার বউ মানে?

---বউ মানে? তুই এইদিকে আয় হারামজাদা তোকে আমি বউ এর মানে বুঝাচ্ছি।(রেগে দুই পা এগিয়ে গিয়ে)

---না না। তার প্রয়োজন নেই। আমি বুঝে গিয়েছি।

---ভালো। এই বার বল।(নরম হয়ে)

---এখন আর কি বলব?

---কি বলবি জানিস না?

---না।(নিষ্পাপ মুখ করে)

---"আমি তোমাকে ভালোবাসি" বল।

---কি? আমি তোমাকে ভালোবাসি বলব?

---হ্যাঁ। এখানে এত অবাক হওয়ার কি আছে?

---না না। কিছু নেই।

---তাহলে বলছিস না কেন? নাকি অন্য কাউকে ভালোবাসিস?(রেগে)

---না না। আমি তোকে ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসি না।

---ভালো। এই বার লক্ষ্মী ছেলের মতো আমাকে ভালোবাসার কথা টা বলে ফেল তো দেখি।

---না বললে হয় না?(নিষ্পাপ মুখ করে)

---আমার হাতে মারতে চাইলে বলিস না।

---না না বলছি বলছি। আমি তোমাকে ভালোবাসি।

---এই তো লক্ষ্মী ছেলের মতো কথা। আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি।(জড়িয়ে ধরে)

---এই ছাড় ছাড়।

---কেন?

---কেউ দেখে নিবে।

---নিলে নিবে।

---আমার এই সব ভালো লাগে না। প্লিজ! ছেড়ে দে।

---আচ্ছা। ছেড়ে দিলাম। তবে একটা কথা।

---কি?

---আমি জানি তোকে কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখি না।

---সেটা তো আমি এমনিও বলি না।

---ভালো।

---শুধু নিয়ম টা কি আমার জন্যই প্রযোজ্য নাকি তোর জন্য প্রযোজ্য?

---আমাকে কি তুই আজ পর্যন্ত তুই বাদে আর কোন ছেলের সাথে কথা বলতে দেখেছিস?(রেগে)

---না।

---তাহলে এই প্রশ্ন কেন?

---এমনি।

---হুম

.

আরহীর এই হঠাৎ হঠাৎ রেগে যাওয়ার বিষয় টা সাগর অনেক ভয় পায়। কারণ ও রেগে গেলে কি করে সেটা ও নিজেও জানে না।

.

তাই সাগর ওকে রাগায় না আর কখনো রেগে গেলে সে চুপ করে যায়।

.

সেইদিনের পর থেকে ওদের দুইজনের ভালোবাসা শুরু হয়। আরহী বড়লোক বাড়ির মেয়ে হলেও ওর তেমন চাহিদা ছিল না।

.

তাই ওদের দুইজন ভালো মতোই চলতে থাকে। উল্টো সাগর যখনি বিপদে পরেছে তখন ও সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে।

.

চলবে

মন্তব্যসমূহ