অজানা কিছু জাদুর পিছনের রহস্য।
বন্ধুরা, সবাই জাদু দেখতে পছন্দ করে। কিন্তু কয়েক বার আমাদের মনে প্রশ্ন উঠে যায়। এটি শুধুমাত্র জাদু নাকি কোন ধরনের চুরি? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পোষ্ট টি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
১) কাটিং ইন হাফ।
বন্ধুরা, ক্যাভিন চিন আমেরিকার একজন অসাধারণ জাদুকর। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় জাদু হলো একজন মানুষ কে মাঝখান থেকে কেঁটে আবার জোড়া লাগিয়ে দেয়। যেমন আপনি এই ভিডিও তে দেখতে পারছেন, ক্যাভিন একজন সার্জান এর পোশাক পরে রয়েছে।
তিনি তার অ্যাসিস্ট্যান্ট কে কেঁটে দুই খণ্ড করে দেয়। তবুও সেই মানুষ টি জীবিত রয়েছে। তার হাত নাড়াচাড়া করছে। তার অ্যাসিস্ট্যান্ট সম্পূর্ণ দুই খণ্ডে ভাগ হয়ে গিয়েছে, এটা প্রমাণ করার জন্য তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং টেবিল মাঝ বরাবর হাত বের করে দেখিয়ে দেয়। কিছু সময়ের মধ্যে ক্যাভিন তার বিশেষ ট্রুল এর ব্যবহার করে তাকে আগের মতো জোড়া লাগিয়ে দেয়। তারপর তার অ্যাসিস্ট্যান্ট দাঁড়িয়ে হাঁটতে ও লাফাতে শুরু করে।
সবটা অবাক করার মতো। আপনি হয়ত ভাবছেন ক্যাভিন এই অদ্ভুত জাদু কি করে করছে? সে সত্যি কি মানুষটির শরীর দুই ভাগ করে আবার জোড়া লাগিয়ে দিয়েছে? বন্ধুরা, বাস্তবে এমন কিছু ঘটে নি। আপনি যেমন জানেন প্রতিটি জাদুর পিছনে একটি রহস্য থাকে।
তেমনি এই জাদুর পিছনে একটি রহস্য রয়েছে। এখানে যে অ্যাসিস্ট্যান্ট দেখানো হয়েছে সেটি একটি ট্ররসো। ট্ররসো অর্থ কোমড় এর উপরের ভাগ। যখন ক্যাভিন অ্যাসিস্ট্যান্ট কে কাঁটে, তখন ট্ররসো টেবিলের উপরে পরে যায়। দেখে মনে হয় তাকে মাঝ থেকে কেঁটে ফেলা হয়েছে। তারপর অন্য টেবিল এ রেখে তার নকল পা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
যখন ক্যাভিন তার বিশেষ ট্রুল বের করে, তখন ট্ররসো টি ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবেছেন সেই ট্ররসো টি ভিতরে নিয়ে আবার বাহিরে কেন নিয়ে যায়? যা করার সব কিছু তো সবার সামনেই করা যায়। কারণ সেই সময় টেবিল এর উপরে ট্ররসো না থেকে একটি মানুষ থাকে। দেখে মনে হয় সেই মানুষ টি হলো কাঁটা যাওয়া মানুষটি। কিন্তু মুখের ভিতরে মাস্ক পরে থাকার কারণে আমরা পার্থক্য বুঝতে পারি না।
তারপর ক্যাভিন বিশেষ ট্রুল দিয়ে লোকটিকে ঠিল করার ভান করে আর লোকটি দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করে। এটা দেখে আমরা অবাক হয়ে যাই।
২) দ্যা ফেনিশিং ট্রেক।
ক্রিস এঞ্জেল এই জাদু টি দেখেছিল। এটি দেখে অনেক মানুষ অবাক হয়ে যায়। এখানে ক্রিস অদৃশ্য হওয়ার জাদু দেখায়। ক্রিস বালতি এবং কাঁঠের উপরে দাঁড়িয়ে যায়। তার দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকে। তারপর একটি কাপড় তার সামনে আনা হয়। তার কিছু সময় পরেই ক্রিস অদৃশ্য হয়ে যায়।
দেখতে দেখতে সে কিভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়? তার কাছে কি অদৃশ্য হওয়ার শক্তি আছে নাকি অন্য কিছু? এখন আমরা বলব আসলে ক্রিস কিভাবে অদৃশ্য হয়েছিল। একটু খেয়াল করে দেখুন ক্রিস এর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির ছায়া সামনের দিকে পরছে। যখন ক্রিস অদৃশ্য হয় আর কাপড় সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন লোকটির ছায়া আমরা দেখতে পাই না।
ভালো করে দেখুন। এটি কিভাবে সম্ভব? নিশ্চয়ই কিছু ঝামেলা আছে। এটার কারণ হলো বালতি এবং বাক্সের মধ্যকার জায়গায় খালি ছিল না। বরং সেখানে একটি স্কিন ছিল। সেখানে প্রথম থেকে আমাদের রেকটিং ভিডিও দেখানো হয়েছিল। সেখানে পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির পা আগে থেকে রেকটিং করা ছিল।
যখন স্কিন এর জন্য রেকটিং করা হচ্ছিল, তখন ছায়া পিছনের দিকে ছিল। কিন্তু জাদু চলার সময় লোকটি ছায়া সামনের দিকে ছিল। উপরের চড়ার সময় আমরা ক্রিস এর পা দেখতে পাই। এখন আপনি বলেন তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব? সেটি সম্ভব কারণ এটি ক্রিস এর আসল পা নয় বরং একটি রেকটিং ভিডিও। এর জন্য ক্রিস কে অনেক বেশি অনুশীলন করতে হয়েছে।
তারপর দুইটি চিত্র একই বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা দুইটি চিত্রের মধ্যে বেশি পার্থক্য দেখতে পাই না। যেমন ক্রিস দ্রুত উপরে উঠে কাপড় এর পিছনে চলে যায়। তারপর তার হাত ছাড়িয়ে কাপড় এর পিছনে চলে যায়। কিন্তু মাঝে স্কিন হওয়ার কারণে সে সেখানে লুকিয়ে থাকে আর আমরা তাকে দেখতে পাই না। আমরা মনে করি সে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে।
সেখানে স্কিন থাকার আরো একটি প্রমাণ আছে। সেটা হলোঃ একদিকে বালতি এবং আরেক দিকে বাক্স রাখা হয়েছে। কিন্তু এমন টি করার কারণ কি? কারণ সেই বাক্স এর ভিতরে স্কিন এর জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার রাখা হয়েছে। এই জন্য একদিকে বালতি এবং অপর দিকে বাক্স রাখা হয়েছে।
৩) রেজার ব্লেড।
রেজার ব্লেড যদি সাবধানে ব্যবহার না করা হয়। তাহলে অনেক ভয়ঙ্কর এবং বিপদজনক প্রমাণিত হতে পারে। কিন্তু জাপানের এক জাদুকর টেম্পা রেজার ব্লেড দিয়ে একটি জাদু দেখায়। যা দেখে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।
প্রথমে টেম্পা বিচারকদের দিকে একটি আসল ব্লেড এগিয়ে দেয়। সেটি আসল ব্লেড নাকি নকল তা দেখার জন্য। বিচারকরা এই ব্লেড আসল সেটি নিশ্চিত করে তাকে ফিরিয়ে দেয়। তারপর টেম্পা ব্লেড টি তার মুখের ভিতরে ডুকিয়ে গিলে ফেলে। এমন আরো কয়েকটি ব্লেড টেম্পার কাছে আছে। টেম্পা সব গুলো গিলে নেয়। ব্লেড গিলে ফেলার জন্য টেম্পা জুস খায়। যাতে দর্শক মনে করে সে সব ব্লেড খেয়ে ফেলেছে।
কিন্তু কিছু সময় পরে টেম্পা একটি দড়ির সাহায্যে সব ব্লেড পেট থেকে বের করে আনে। প্রথমত ব্লেড গিলে ফেলা অসম্ভব কাজ। তার উপরে সেই ব্লেড দড়ির সাহায্যে বের করা কিভাবে সম্ভব? এখন চলুন আপনাদের এই জাদুর রহস্য বলি। সাধারণত এই জাদু করা অনেক কঠিন। তবে টেম্পা এই জাদু করার অনেক চর্চা করেছে। তাই সে এটি সহজে করে ফেলে।
মূলত টেম্পা ব্লেড গুলো গিলে ফেলে না। বরং মুখের ভিতরে লুকিয়ে ফেলে। যখন সে জুস খায়, তখন গ্লাসের ভিতরে সকল ব্লেড বের করে রাখে। যা জুস এর রং এর জন্য কেউ বুঝতে পারে না। আপনি যদি আমার কথা বিশ্বাস না করেন, তাহলে ভিডিও টি থামিয়ে দেখুন। আপনি গ্লাসের ভিতরে সকল ব্লেড দেখতে পারবেন।
এখন আপনি ভাবতে পারেন যদি সে গ্লাসের ভিতরে সকল ব্লেড ফেলে দেয়, তাহলে দড়ি র সাথে বাঁধা কিভাবে বেরিয়ে আসছে? এর উত্তর টেম্পার মুখের ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে। টেম্পা জাদু শুরু করার আগে নকল ব্লেড তার মুখে লুকিয়ে রাখে। তারপর জাদু শুরু হলে এক এক করে সব বের করে আনে। টেম্পা এই জাদু টি অনেক বার চর্চা করেছে। সেইজন্য আপনারা বাড়িতে চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকুন।
৪) কাপড় পরিবর্তন।
এই জাদু সবচেয়ে চমৎকার এবং দ্রুত গতির। এই জাদু তে অনেক সময় দ্রুততার সাথে কাপড় পরিবর্তন করে ফেলা হয়। এই জাদু মেয়েটি এত দ্রুততার সাথে করে যে, সামনে থাকা মানুষ অবাক হয়ে যায়।
প্রথমে মেয়েটি ষ্টেজ এ আসে আর একটি কাপড় এর ভিতরে ডুকে পরে। তারপর দেখতে দেখতে তিনি কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে তার কাপড় পরিবর্তন করে ফেলে। এটা দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত কেউ এই জাদুর রহস্য উৎঘাটন করতে পারে নি। তবে আজকে আমরা আপনাদের এই জাদুর পিছনে লুকিয়ে থাকা রহস্যের কথা বলব।
বন্ধুরা, এই জাদুর রহস্য জাদুকর এর কাপড়ের ভিতরে লুকিয়ে থাকে। এই জাদু করার সময় জাদুকর একটি ভিন্ন ও অসাধারণ ধরনের কাপড় পরে থাকে। এই কাপড় সাধারণত এই সব জাদুর জন্য তৈরি করা হয়। এটি ভিন্ন ডিজাইন এর কাপড়। যার ভিতরের কয়েক ধরনের লিয়ার রয়েছে। জাদুকর এই সব লিয়ার পরেই ষ্টেজ এ আসে।
এই কাপড় খোলা অনেক সহজ। এটি হুক এর সাহায্যে দ্রুততার সাথে খুলে ফেলা যায়। যেমন আপনি এই ভিডিও তে দেখতে পারছেন। এই মেয়েটিকে দেখে মনে হয় সে কয়েক ধরনের কাপড় পরে রয়েছে। কারণ এত মোটা জ্যাকেট কেউ পরে না আর ভিডিও এর শেষে তাকে অনেক চিকন দেখা যায়।
এই ভিডিও তে আপনি দেখতে পারছেন। কিভাবে এই মেয়েটি তার কালো পোশাক খুলে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। এই জাদু করার জন্য জাদুকর কে দ্রুততার সাথে করতে হয় আর বুদ্ধিমান হতে হয়। কারণ মানুষ কে না বুঝতে দিয়ে কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে কাপড় পরিবর্তন করতে হয়। তার পাশাপাশি সেগুলো লুকিয়ে ফেলতে হয়। যা এই মেয়েটি সুন্দর করে করেছে।
৫) ড্রিল মেশিন।
বন্ধুরা, এই জাদু ভয়ঙ্কর হওয়ার পাশাপাশি আপনাকে অবাক করে দিতে পারবে। এই ভিডিও তে আপনি দেখতে পারছেন, একটি লোক তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মাথায় ড্রিল মেশিন ডুকানোর চেষ্টা করছে। তবে শেষ পর্যন্ত তার কোন কিছু হয় না। যেন তার মাথা স্টিল দিয়ে তৈরি আর এতে তার মধ্যে কোন পার্থক্য হচ্ছে না।
বন্ধুরা, এই জাদু সতর্কতা এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে করতে হয়। এর রহস্য হলোঃ জাদুকর যে ড্রিল মেশিন ব্যবহার করে। সেটি সাধারণ কোন ড্রিল মেশিন না। এই ড্রিল মেশিন অন্য ড্রিল মেশিন এর মতো না। এই ড্রিল মেশিন এর উপরের অংশ তীক্ষ্ণ নয়। বরং এর উপরের অংশ বোতা করে দেওয়া হয়। যার ফলে সেটি জাদুকর এর মাথার আড়পার হতে পারে না। যদি অনেক শক্তি ব্যবহার করা হয়, তাহলে হয়ত এটি তার মাথায় ডুকতে পারে।
৬) স্কিন জাদু।
এই জাদু তে এক নয় বরং দুইজন জাদুকর রয়েছে। তারা স্কিন থেকে দুইজন মেয়ে কে বের করে আনে। তবে এই জাদু তে শুধু এটি রহস্য না। এই জাদু তে জাদুকর বেলুন স্কিন এর ভিতরে ডুকিয়ে দেয় আর সেখান থেকে দুইটি ছাতি বের করে আনে।
এই জাদুটি পিছনে কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। তা আমরা এখন আপনাদের বলে দিবো। প্রথমে আপনাদের বলে দেই, এই স্কিন টি একটি সাধারণ স্কিন। যার মধ্যে রেকটিং ভিডিও চালু করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই স্কিন এ একটু বেলুন কিভাবে ডুকিয়ে দেয় আর কিভাবে ছাতা বের করে আনে তা এখন দেখে নিন।
এখন বেলুন টি ভালো করে দেখুন। ভালো করে দেখলে বুঝা যায়, জাদুকর বেলুন টি স্কিন এর অনেক কাছে নিয়ে যায়। তারপর সে কোন ভাবে বেলুন টি ফাঁটিয়ে দেয় আর তখন স্কিন এ বেলুন টি দেখানো হয়। ভালো করে দেখলে সেই ফাঁটানো বেলুন পরতে দেখা যায়। কিন্তু দূর থেকে মানুষ সেটি দেখতে পারে না।
এখন যদি আমরা স্কিন থেকে ছাতা বের করার বিষয় টি দেখব। একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, সেই ছাতা আগে থেকেই তাদের হাতে ছিল। সেগুলো জাদুকর দ্রুততার সাথে বের করে ফেলে আর আমরা দেখতে পাই নি। তারপর তারা সেটি স্কিন এর অনেক কাছে নিয়ে খুলে দেয়।
এখন সময় হলো কিভাবে জাদুকর মেয়েদের স্কিন থেকে বের করে আনে। যখন জাদুকর বড় একটি কাপড় স্কিন এর সামনে আনে, তখন তার ভিতরে লুকিয়ে দুইজন মেয়ে ষ্টেজ এ চলে আসে। যা আমরা দেখতে পাই নি।
যখন জাদুকর বড় কাপড় টি উপরে তুলে ফেলে, তখন একটি মেয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসে। জাদুকর তখনো সেই কাপড় সম্পূর্ণ ভাবে সরিয়ে নেয় নি। তাই আমরা দ্বিতীয় মেয়েটিকে দেখতে পাই নি। জাদুকর দ্বিতীয় মেয়েটিকে লুকানোর অনেক চেষ্টা করে।
কিন্তু আপনি যদি ভিডিও থামিয়ে দেখেন তাহলে আপনি দ্বিতীয় মেয়েটি পা প্রথম মেয়েটির পিছনে দেখতে পাবেন। যখন প্রথম মেয়েটিকে আবার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, তখন দ্বিতীয় মেয়েটি দ্রুত দাঁড়িয়ে যায়। তারপর জাদুকর কাপড় সরিয়ে দেয় আর আমরা দুইজন মেয়ে কে দেখতে পাই। এই ভাবে জাদুকর একটি প্যাঁচানো জাদু সম্পূর্ণ করে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার যদি গল্প নিয়ে বা গল্পের লেখক এর সম্পর্কে কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন। ধন্যবাদ।