পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সুনামি।
২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামির ঘটনা এখনো অনেক মানুষের মনে আছে। সেই সুনামি তে ৩০ ফুট উঁচু ঢেউ উঠেছিল। যার ফলে ইন্দোনেশিয়া, সাউথ এশিয়া এবং ইস্ট আফ্রিকায় অনেক কিছু ধ্বংস হয়েছিল। এই সুনামিতে দেড় লক্ষ মানুষের জীবননাশ হয়। আপনি কি জানেন সুনামির ঢেউ কত উঁচু পর্যন্ত উঠতে পারে?
আজ থেকে প্রায় ৯ বছর আগে জাপানে অনেক বড় একটি সুনামি আসে। ভারত মহাসাগরের মতো এই সুনামি ভূমিকম্প এর ফলে উৎপন্ন হয়েছিল। এর ঢেউ প্রায় ৪০.৫ মিটার ছিল। যা আমেরিকার স্ট্রেচু অফ লিবার্টি থেকে ৫ মিটার কম ছিল। যদিও এই সুনামির ফলে বেশি ক্ষতি হয় নি। তবে এটি জাপানের অর্থনৈতিক অবস্থার উপরে অনেক খারাপ প্রভাব ফেলে। কারণ সুনামির জল জাপানের সমুদ্রতট থেকে ১০ কিলোমিটার ভিতরে চলে এসেছিল।
জাপানে আসা সুনামির পরের দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল, এটি যেন কোন হলিউড মুভির দৃশ্য। এর ফলে জাপানের অনেক বড় একটা অংশ জলের নিচে ডুবে ছিল। এই সুনামির ফলে জাপানের ২২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। যা সাউথ আফ্রিকার জিডিপি এর থেকে বেশি। যাই হোক, এই ধরনের সুনামি প্রায় এসে থাকে।
এর থেকে ভিন্ন ধরনের একটি সুনামি আছে। যাকে আমরা মেগা সুনামি বলি। এটি সাধারণ সুনামির চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর। আপনি হয়ত ভাবছেন সুনামি আর মেগা সুনামি র মধ্যে পার্থক্য কি? সাধারণ সুনামি ভূমিকম্পের কারণে এসে থাকে। অন্যদিকে মেগা সুনামি জলের ভিতরে বড় কোন জিনিস ফেলার ফলে আসে। যার ফলে অনেক বড় ঢেউ উৎপন্ন হয়।
যদি মেগা সুনামির কথা বলা হয়, তাহলে এটি আজ থেকে ৫৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৬৩ সালে ইটালি তে দেখতে পাওয়া যায়। আপনারা সবাই সবাই জেনে অবাক হবেন, ভেনিস থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ইটালিয়ান সরকার একটি বড় বাঁধ নির্মাণ করছিল। যা সেই সময়ের সবচেয়ে উঁচু বাঁধ ছিল। এই বাঁধ এর বড় ভুল হলোঃ এর জল ধারণ ক্ষমতা কে এমন একটি পাহাড় এর নিচে বানানো হয়, যা অনেক দুর্বল ছিল। এর থেকে প্রায়ই পাথর পরতে থাকে। ১৯৫৯ সালে এই বাঁধ নির্মাণ সমাপ্ত হওয়ার কিছু মাস পরে এর পাশের পাহাড় এর অনেক অংশ ভেঙ্গে জলে পরে যায়।
যা এক ধরনের সতর্ক সংকেত ছিল। যদিও এই সতর্ক সংকেত পাওয়ার পরে ইটালি সরকার এই দিকে নজর দেয় নি। যার ফলে একটা সময় পাহাড় এর অনেক বড় অংশ ভেঙ্গে জলে পরে যায়। যদিও সেই সময় প্রকৌশলী এর জলের লেভেল কমিয়ে দিয়েছিল। কারণ তাদের মতে, এই অবস্থায় যদি পাহাড় এর কোন অংশ জলে পরে তাহলে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হবে না। কিন্তু বাস্তবে এমন টি হয় নি।
যখন এই পাহাড়ের অংশ ভেঙ্গে পরে, তখন এত শক্তিশালী ঢেউ উৎপন্ন হয়। যা প্রকৌশলীর ধারণার ১০ গুন বেশি শক্তিশালী ছিল। এই কারণে বাঁধ এর চেয়ে ৮২০ ফুট উঁচু এবং শক্তিশালী ঢেউ উৎপন্ন হয়। যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ উঁচু বিল্ডিং বুজ খলিফার এক চতুর্থাংশ সমান উঁচু। আপনারা সবাই জেনে অবাক হয়ে যাবেন, এর পাহাড় ভেঙ্গে পরার কারণে জলের নিচে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যা ৮০ মিটার চড়া এবং ২০০ মিটার গভীর ছিল।
যখন এত বড় ঢেউ উৎপন্ন হয়েছিল, তখন আশেপাশের জিনিস ধ্বংস হওয়ার কথাই ছিল। সেই সময় ঠিক এমনি ঘটেছে। এই ঢেউ পাহাড় এর নিচে বসবাস করা মানুষদের পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। যার ফলে এক রাতের মধ্যে ২ হাজার এর বেশি মানুষের প্রাণনাশ হয়।
আপনি যদি মনে করেন এটি আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মেগা সুনামি, তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। কারণ ১৯৫৮ সালে এলাক্সার কাছে অবস্থিত হিটোয়াবে তে এমন একটি সুনামি এসেছিল। যা এই পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিনাশকারী সুনামি। এই মেগা সুনামি উৎপন্ন হওয়ার প্রধান কারণ ছিল ভূমিকম্প।
এই ভূমিকম্পের কারণে সেখানকার মাটি সরে গিয়েছিল। যার ফলে সেখানকার পাহাড়ের অনেক অংশ মাটিতে পরে যায় আর ১৭২২ ফুট উঁচু ঢেউ উৎপন্ন হয়। যা বুজ খলিফা বিল্ডিং এর চেয়ে ১ হাজার ফুট কম ছিল। এই ভয়ঙ্কর সুনামির কারণে সেখানে অনেক ক্ষতি হয়েছিল আর কোটি টাকা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
যদিও এটি প্রাচীন সুনামির চেয়ে কম ভয়ঙ্কর ছিল। কিন্তু এটি আমাদের মানুষের সামনে আসা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সুনামি ছিল। কারণ প্রাচীন সুনামির কথা বললে আজ থেকে দেড় কোটি বছর আগে হাউয়াই এর মুলোকনা দ্বীপ এ তথ্য মতে, এখানে থাকা সমুদ্রের ভিতরে অগ্নিগিরি অর্ধেক অংশ পরে গিয়েছিল। যার কারণে ১৯৭০ ফুট উঁচু ঢেউ উৎপন্ন হয়েছিল।
যা মুলোকাই এবং তার আশেপাশের সব গুলো দ্বীপ ডুবিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এটা কি পৃথিবীতে আসা সবচেয়ে বড় সুনামি ছিল? আমার তো মনে হয়। আপনারও এমন মনে করা ঠিক না। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুনামি আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে এসেছিল। সেটাও ওই উল্কাপিণ্ডের কারণে যেটি পৃথিবী থেকে ডাইনোসর অস্তিত্ব মুছে দিয়েছিল। এই উল্কাপিণ্ডের নাম ছিল চিসকিলো উল্কাপিণ্ড।
যা পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু মেক্সিকো তে পরেছিল এবং যার গতি ১০ কিলোমিটার ছিল। এর উল্কাপিণ্ডে এত বেশি শক্তি ছিল যে, যখন এটি পৃথিবীতে এসে পরে তখন সমুদ্র থেকে ৫.১ কিলোমিটার উঁচু ঢেউ উৎপন্ন হয়েছিল। যা আমাদের পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঢেউ ছিল। তার উচ্চতা ১০ টি বুজ খলিফা বিল্ডিং এর সমান ছিল।
কিন্তু যা আজ থেকে সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে হয়েছিল, সেটি আবার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। এই বিষয়ে আপনার মতামত কমেন্ট করে জানান।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার যদি গল্প নিয়ে বা গল্পের লেখক এর সম্পর্কে কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন। ধন্যবাদ।