বিশ্বের অন্য দেশ ভারত এর সম্পর্কে কি চিন্তা করে?
গত কিছু বছরে সারা বিশ্বে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আজকে আমেরিকা থেকে শুরু করে রুশ সব গুলো দেশ ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভারতীয় মানুষের প্রতিভার ছাপ দুনিয়ার সব জায়গায় রয়েছে।
অনেক বড় বড় কোম্পানিতে ভারতীয় নাগরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে রয়েছে। অনুন্নত দেশ থেকে শুরু করে পশ্চিমদেশ পর্যন্ত সব দেশ ভারতের সাথে ব্যবসা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে। দূর থেকে দেখে মনে হয় পাকিস্তান ও চীন ভারতের শত্রু আর আমেরিকা ও রুশ দেশ ভারতের বন্ধু। কিন্তু অনেক বার এমন মনে হয় বাস্তবতা ভিন্ন।
১) জাপান।
![]() |
| জাপান |
ভারত আর জাপান এর সম্পর্ক শুরু থেকেই ভালো ছিল। কারণ সেই সময় ভারত ব্রিটেন এর গোলাম ছিল আর জাপান ও ব্রিটেন এর ভিতরে শত্রুতা ছিল। শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়। এই প্রবাদ এখানে ভালো ভাবে বসে। জাপান ভারত কে তাদের ভালো বন্ধু ভাবে। জাপান এর অনেক টেকনোলজি ভারতে ব্যবহৃত হয়। জাপানের প্রমুখ বৌদ্ধ ধর্মের শুরু ভারত থেকে হয়েছে। জাপানের অনেক মানুষ বলিউড এবং সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি পছন্দ করে।
রজনীকান্ত জাপানের মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয়। জাপান ও ভারতের ভিতরে বিভিন্ন সময় সৈন্য অভ্যাস হয়ে থাকে। করোনা মহামারীর সময় জাপান অনেক মেডিকাল যন্ত্রপাতি পাঠিয়ে ভারত কে সাহায্য করছে। শুধু এটায় নয়। আজ দুই দেশের মধ্যে বিপুল ডলার এর ব্যবসা হচ্ছে। এক গবেষণা অনুসারে জাপানের ৭২% লোক ভারত কে ইতিবাচক নজরে দেখে।
প্রতি বছর টোকিও তে "নমস্তে ইন্ডিয়া" নামের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তার সাথে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল জাপানে আয়োজন করা হয়। জাপানের পূর্ব প্রধানমন্ত্রী সিনজুয়া আবেগো কে ভারত সরকার পদ্মভূষণ পদ দিয়ে সম্মানিত করেছে।
২) ইউক্রেন।
![]() |
| ইউক্রেন |
ইউক্রেন ও রুশ যুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ভারত অপ্রত্যাশিত ভাবে রুশ দের সমর্থন করেছে। ভারত প্রথম একটি দেশ যারা ইউক্রেন কে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেন সব সময় ভারতের বিরুদ্ধে হওয়া ষড়যন্ত্রে সমর্থন করেছে।
১৯৯৮ সালে ভারত যখন বোক্রেন এ পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা করেছে। তখন পাকিস্তান সহ দুনিয়ার ২৫ টি দেশ সংযুক্ত রাষ্ট্র সুরক্ষা ব্যবস্থায় ভারতের বিরুদ্ধে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। যেখানে ইউক্রেনও ছিল। শুধু এটাই না ভারতের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানকে ইউক্রেন বড় সংখ্যায় অস্ত্র এবং ট্রাঙ্ক বিক্রি করে। এখন পাকিস্তান এয়ারফোর্স কে শক্তশালী করার জন্য ইউক্রেন থেকে সাহায্য চাচ্ছে। এর ফলে কোথাও না কোথাও ইউক্রেন পাকিস্তান কে সাহায্য করে ভারতের বিরুদ্ধে শক্তিশালী তৈরি করছে। এত কিছুর পরে ইউক্রেন কোন মুখে ভারতের কাছে সাহায্য চায় তা ভাবার বিষয়।
৩) নর্থ কোরিয়া।
![]() |
| নর্থ কোরিয়া |
বন্ধুরা, নর্থ কোরিয়া কে সম্পূর্ণ বিশ্বের ভিতরে ভিন্ন পর্যায়ে ধরা হয়। এই দেশের প্রধানমন্ত্রী কিম জং কে পাগল সরকার বলা যায়। কেউ জানে না কখন তার মাথা খারাপ হয়ে যাবে আর কোন দেশের উপরে পারমানবিক বোম দিয়ে আক্রমণ করে দিবে। অন্য দেশের সাথে নর্থ কোরিয়ার সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন, ভারতের সাথে নর্থ কোরিয়ার সম্পর্ক অনেক ভালো। ভারত ও নর্থ কোরিয়ার ভিতরে ১৯৭০ সাল থেকে ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশেই একে-অপরের দূতাবাস রয়েছে।
কিন্তু কোন ভারতীয় নর্থ কোরিয়ায় ভারতের রাজদূত পদে কাজ করতে চায় না। ২০০৬ সালে নর্থ কোরিয়ার নিউক্লিয়ন টেস্টের ভারত বিরোধিত করেছিল। কিন্তু নর্থ কোরিয়ার যখনি প্রয়োজন পরেছে ভারত সাহায্যের হাত এগিয়ে দিয়েছে। ভারত অনেক বার হাজার টন শাকসবজি এবং মেডিসিন নর্থ কোরিয়াকে দিয়েছে।
৪) ইউ.এস.এ(আমেরিকা)।
![]() |
| আমেরিকা |
বন্ধুরা, আজকের সময় এ সবাই এটাই মনে করে ভারত আর আমেরিকা মধ্যকার সম্পর্ক অনেক মজবুত। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে দেখা যায় আমেরিকা সব সময় ভারতের বিরুদ্ধে গিয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময় আমেরিকা পাকিস্তানের সাহায্যের জন্য তাদের এয়ারক্রাফট পাঠিয়েছিল। শুধু এটাই নয় দীর্ঘ একটা সময় আমেরিকা পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেছে। বোক্রেন পরামানিক পরীক্ষার সময় আমেরিকা ভারতের বিরোধিত করেছে।
কিন্তু এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা থেকে বলা হয় আমেরিকা কে ভারতের ভালো বন্ধু। চীনের সাথে যুদ্ধের সময় আমেরিকা সমাধান করেছে। ভারত ও চীনের ভিতরে ম্যাকলাইন শুরু করা হয়। দুই দেশের ভিতরে লক্ষ, কোটি টাকার ব্যবসা হয়। কিন্তু আমেরিকা বিভিন্ন সময় ভারতের বিরুদ্ধে কঠিন হয়েছে। কখনো এস.ওয়ান.বি ভিসার নিয়ম কঠিন করে আবার কখনো করোনা ভ্যাকসিন এর রো-মেটারিয়াল পাঠানো বন্ধ করে আমেরিকা বন্ধুত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে দেয়।
৫) ব্রাজিল।
![]() |
| ব্রাজিল |
বন্ধুরা, ভারত ও ব্রাজিল অন্ত-রাষ্ট্র স্তরে ব্রেক্স, জি.ফোর, আই.বি.এস.এ এই রকম কয়েকটি সংঘটন এ একসাথে রয়েছে। এন.এস.জি সদস্য পাওয়া নিয়ে ব্রাজিল সব সময় ভারতের সমর্থন করেছে। তাই বলে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় না ব্রাজিল ভারতের সব সময় থেকে ভালো বন্ধু ছিল। স্বাধীনতার পর ভারত পর্তুগাল এর উপরে জোর দিয়ে গোয়া কে মুক্তি করেছে। তখন আন্তর্জাতিক স্তর এ ব্রাজিল ভারতের সমালোচনা করে বলে, "এটা ভারতের ভুল পদক্ষেপ"।
এছাড়া ২০০৯ সালে ভারত না করার পরেও ব্রাজিল ১০০ এয়ারমিশাইল পাকিস্তান কে দিয়েছে। ২০১৩ সালে হওয়া এক গবেষণা অনুযায়ী, ব্রাজিলের ২৩% জনগণ ভারত কে ইতিবাচক নজর এ দেখে। গত কিছু বছর এ ব্রাজিল এ ভারতীয় সংস্কৃতি প্রভাব দেখা গিয়েছে। কর্থক, ভারতনাট্যম এবং কুচিপুরী নৃত্য ব্রাজিল এ অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ব্রাজিলের জনগণ গেয়ো কে তাদের সংস্কৃতিতে অন্তর্ভূত করছে। ভারতের রাম-কৃষ্ণ সংঘটন ব্রাজিল এ সচল আছে। ব্রাজিল ভারতকে জৈবিক পদার্থ প্রদান করছে। রিলায়েঞ্জ কোম্পানি ব্রাজিল থেকেই সবচেয়ে বেশি জৈবিক পদার্থ ক্রয় করছে।
৬) পাকিস্তান।
![]() |
| পাকিস্তান |
ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক সম্পূর্ণ দুনিয়ার মানুষ জানে। স্বাধীনতার পর থেকে কাশমির কে নিয়ে দুই দেশেই ঝামেলা হচ্ছে। গত কিছু বছর ধরে পাকিস্তানের সরকার সহ কিছু কর্মকর্তা ভারতের গুনগার গাচ্ছে। কিন্তু আসলে পাকিস্তান সব সময় সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়েছে। যার ব্যবহার তারা ভারতের বিরুদ্ধে করে আসছে। এক গবেষণা অনুযায়ী, ৭১% পাকিস্তানি ভারতকে ঝুঁকি হিসাবে দেখে।
ওখানের স্কুল-কলেজ এ ভারতের বিরুদ্ধে পড়ানো হয়। তারা সাথে ইতিহাস কে বিপরীত পড়ানো হয়। পাকিস্তানের পাঠ্যবই অনুসারে, ভারত এক সময় পাকিস্তানের অংশ ছিল। পাকিস্তানের পাঠ্যবই অনুসারে, পাকিস্তান এক সময় মধ্য ভারত ও বাংলাদেশ কে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। এত মিথ্যা পাকিস্তানের শিশুদের পড়ানো হচ্ছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে তাদের মনে ঘৃণা ভরে দেওয়া হচ্ছে।
যদিও শাহরুখ খানের মতো অনেক বলিউড সুপারস্টারের পাকিস্তানে অনেক ভক্ত রয়েছে এবং সেখানের জনগণ ভারতীয় ছবি অনেক পছন্দ করে।
৭) রাশিয়া।
![]() |
| রাশিয়া |
রুশ আর ভারতের বন্ধুত্ব আজ কারো থেকে লুকিয়ে নেই। দুই দেশের ভিতরে বন্ধুত্বের শুরু ১৯৯১ সালে। পাকিস্তানের সাথে হওয়া যুদ্ধে অনেক দেশ পাকিস্তানের সমর্থন করেছে। তখন রুশ একা ভারতের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। রুশ আমেরিকা সৈন্য আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ভারতে আধুনিক মিশাইল তৈরি করতে রুশ সব সময় সাহায্য করেছে।
পৃথিবী, জল আর আকাশে রুশ অনেক আবদান রেখেছে। নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপের সদস্য হওয়ার পরেও রুশ সব সময় ভারতের সাথে ছিল। এই দুই দেশের ভিতরে বিভিন্ন সৈন্য অভ্যাস হয়। রুশ দেশে এখন ভারতীয় সংস্কৃতি দেখা যায়। রুশ ১৫০ এর বেশি ইসকন সেন্টার খুলেছে। যার সাথে ১ লক্ষ ৫০ হাজার এর বেশি মানুষ যুক্ত আছে।
এর ভিতরে মানুষ প্রশ্ন করছে ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধে ভারত রুশের পক্ষ কেন নিচ্ছে? তাদের একবার ভারত ও রুশ মধ্যকার সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।
৮) ইসরাইল।
![]() |
| ইসরাইল |
বন্ধুরা, ইসরাইল এর সাথে ভারতের সম্পর্ক সব সময়ই উত্তেজনা মূলক ছিল। যে বছর ভারত ইংরেজি শাসনামল থেকে মুক্তি পেয়েছিল সেই বছর ইসরাইল স্বাধীন হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে ভারত ইসরাইল কে স্বাধীন দেশে হিসাবে অস্বীকার করে এবং সংযুক্ত রাষ্ট্র এ ইসরাইল এর বিরুদ্ধে মত দেয়। কিন্তু কিছু বছর পর ভারত ইসরাইল কে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে গ্রহণ করে নেয়।
১৯৬২ সালে চীনের সাথে যখন ভারতের যুদ্ধ হচ্ছিল তখন ইসরাইল এক জাহাজ অস্ত্র ভারত কে পাঠায়। তখন থেকেই দুই দেশের ভিতরে ভালো সম্পর্কের শুরু হয়। ১৯৯০ সালের পর থেকে দুই দেশের গুপ্তচর দপ্তরে ভালো সম্পর্ক মানা হয়। ইসরাইল ও পাকিস্তানের ভিতরে মনো-মালিন্য চলতে থাকে। এই কারণ এ ভারতের সাথে ইসরাইলের ভালো সম্পর্ক। ভারত গত কিছু বছর ধরে ইসরাইল থেকে অনেক অস্ত্র ক্রয় করছে।
৯) চায়না।
![]() |
| চায়না |
চায়নার সাথে ভারতের সীমায় ঝামেলা চলতে থাকে। এই ঝামেলা ১৯৫০ সালে দ্বীপদ থেকে শুরু হয়েছে। যখন চীন দ্বীপদ কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারত বিরোধিতা করে। এরপর ডালাই লামা ভারতে এসে আশ্রয় নেয়। তারপর ১৯৬২ সালে দুই দেশের ভিতরে যুদ্ধ হয়। ২০২০ সালে গালওয়াল ভেলিতে চীনের সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ হতে দেখা যায়। ভারত যখন ইউনাইটেড ন্যাশন বৈঠক এ সন্ত্রাসী সংঘটন জৈ-শ্রী-মুহাম্মদ এর বিরুদ্ধে ব্যান লাগানোর প্রস্তাব দেয়। তখন চীন ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার ভারতের বিরুদ্ধে ভোট দেয়।
চীন পাকিস্তানে সন্ত্রাসী বাড়ানোর জন্য অর্থ প্রদান করে। এত সমস্যার পরেও ভারত ও চীনের ভিতরে বড় সংখ্যায় ব্যবসা হয়। যা অবাক করা বিষয়।
১০) সাউথ কোরিয়া।
![]() |
| সাউথ কোরিয়া |
বন্ধুরা, বলা হয়ে থাকে আজ থেকে ২ হাজার বছর আগে এক অযোধ্যার রানী বিয়ে কোরিয়ার রাজার সাথে হয়েছিল। তখন থেকে আজ পর্যন্ত দুই দেশের ভিতরে সম্পর্ক রয়েছে। কোরিয়ান যুদ্ধের পর সাউথ কোরিয়া অনেক উন্নতি করেছে। ভারত সাউথ কোরিয়ান টেকনোলজির অনেক লাভ পেয়েছে। আসোন্ডে, কিয়া, পানাসোনিক, সনি র মতো কয়েকটি কোম্পানির পণ্য ভারতে ব্যবহার করা হয়।
এল.জি.এম স্যামসেম ভারতে ম্যানোফেকচারিং ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে। এর থেকে দুই দেশের ভিতরে ভালো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভারতের ইনফ্লো স্টাকচার এবং সড়ক উন্নয়ন করতে সাউথ কোরিয়ার অবদান রয়েছে। ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে সাউথ কোরিয়ায় ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচলন করা হয়। ভবিষ্যৎ এ দুই দেশের ভিতরে সম্পর্ক মজবুত হবে এবং ইমপোর্ট, এক্সপোর্ট গতি আসার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।










মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার যদি গল্প নিয়ে বা গল্পের লেখক এর সম্পর্কে কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন। ধন্যবাদ।