বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবান ক্লিনার।

বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ৮ জন ভাগ্যবান পরিষ্কারকর্মী।

বন্ধুরা, আমরা যদি আবর্জনা বলি তাহলে আপনাদের সামনে খারাপ ফল, সবজি, ময়লা এমন সব জিনিস আসবে যা আপনারা কখনো ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখতে চাইবেন না। কিন্তু সম্পূর্ণ দুনিয়ায় এমন কিছু ময়লা পরিষ্কার কর্মী রয়েছে যারা ময়লায় মূল্যবান জিনিস পেয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ ময়লার ভিতরে এত বেশি মূল্যবান জিনিস পায় যে তাদের আর ময়লা পরিষ্কার করার কাজ কেন অন্য কোন কাজ করতে হয় না। 


আজকে আমরা আপনাদের এমনি কিছু সত্য ঘটনার কথা বলব যেখানে আবর্জনা ময়লা পরিষ্কারকারী কে কোটিপতি বানিয়ে দিয়েছে। কোন একজন এর ময়লা অন্য জনের জন্য গুপ্তধন হতে পারে।


নাম্বার ১ (এয়ারপোর্টের পরিষ্কার কর্মী)

এয়ারপোর্টের পরিষ্কার কর্মী



নর্থ-কোরিয়া এয়ারপোর্ট এ পরিষ্কার করা কর্মচারী প্রতিদিনের মতো ময়লার বাক্স পরিষ্কার করছিল। তখন তাদের ভিতরে একটা বাক্স তার কাছে অনেক ভারী মনে হয়। ওই বাক্সটি উঠাতে তার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল সেই বাক্সের ভিতরে কেউ এক টন এর বেশি ময়লা ফেলে দিয়েছে। ভিতরে এত ভারী কি আছে সেটা জানতে সে যখন ময়লা নাড়তে লাগল তখন সে কাগজের ব্যাগের ভিতরে কিছু জিনিস পায়।


ওই জিনিস দেখে তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। ওই কাগজ এর ভিতরে ৭ টি সোনার খণ্ড ছিল। যার মূল্য ২ কোটি ৭০ লক্ষ এর মতো। এতে কোন সন্দেহ নেই এগুলো অনেক বেশি টাকা। এখন একটা প্রশ্ন সামনে আসে, "কেন কেউ এত বেশি টাকা ময়লায় ফেলে দিবে?" আপনাদের কি মনে হয় কমেন্ট করে জানান।


ভালো কথা হলো কেউ এই সোনা নিতে আসে নি আর পুলিশ ঘোষনা করে দেয়, "এই সোনা কোন অপরাধ এর সাথে জড়িত না। তাই ওই পরিষ্কারকর্মী ওই সোনা নিজের কাছে রাখতে পারবে।" কিন্তু আমি এই টুকু বলতে পারি ওই পরিষ্কারকর্মী এখন আর ময়লা পরিষ্কারের কাজ করে না।

নাম্বার ২ (হাইওয়ে ক্লিনার)

হাইওয়ে ক্লিনার।



হাইওয়ে পরিষ্কারকর্মী সব সময় রাস্তা পাশে পরা খারাপ টায়ার পরিষ্কার করে। কিন্তু সব পরিষ্কার কর্মচারী টায়ার এর ভিতরে ডুকিয়ে রাখা ৭১ লক্ষ টাকা পায় না। এমনি কিছু হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়া সত্তর ইন্ডিয়ানা পুলিশ এ। দুই পরিষ্কারকর্মী তাদের জীবন পাল্টে দেওয়ার মতো টাকা পেয়েছে। সেটাও এক টায়ারের ভিতরে। কিন্তু তারা সেই টাকা পুলিশ কে দিয়ে দিয়েছে।


মানুষের কথা অনুসারে, "এই টাকা গাড়ির পিছনে লাগানো স্পেয়ার টায়ার এর ভিতরে রাখা ছিল। যা ভুলবশত হাইওয়ে তে পরে গিয়েছে এবং সে এই সব হয়ত পুলিশ এর চোখ থেকে বাঁচার জন্য করেছে।" এমন পদ্ধতি সেখানে ড্রাগস পাচার করার জন্য ব্যবহার করা হয়। কেউ যদি নিজ থেকে এসে সেই টাকার উপরে দাবী না করে তাহলে সব টাকা ওই দুইজন পরিষ্কার কর্মীদের দিয়ে দেওয়া হবে। 


নাম্বার ৩ (টাকা নষ্ট)


টাকা নষ্ট করার যত্ন (সেডার মেশিন)



অনেক বড় কোম্পানি তাদের ব্যক্তিগত কারণ এর জন্য টাকার নোট নষ্ট করে ফেলে। এটা করার জন্য তারা সেগুলো সেডার মেশিন এর ভিতরে ডুকায়। যা পরে অন্য পরিষ্কার কর্মী দ্বারা উঠানো হয় এবং সেগুলো তারা জ্বালিয়ে দেয়। একে "প্ররোরাইজিং" বলা হয়। ২০১২ সালে এমনি এক পরিষ্কার কর্মী অনেক বড় কোম্পানি থেকে ময়লা উঠাচ্ছিল। যা পরে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।


ওইদিন সে প্রতি প্যাকেট গাড়ি থেকে বের করে এবং দেখে অনেক প্যাকেট এ নোট এর ছোট ছোট খণ্ড করা হয়েছে। কিন্তু ওখানের এক প্যাকেট এর সব টাকা আস্তা ছিল। হয়ত ভুলে সেগুলো ওই কোম্পানির মানুষ টুকরো করে নি। ওই ব্যাগের নোট এর মূল্য প্রায় ৮৫ লক্ষ ছিল। আপনি হয়ত অবাক হয়ে যাবেন, "সেই কর্মচারী ওই টাকা নিজে না রেখে টাকা গুলো কার সেটা খুঁজতে লেগে পরে। সে এই কথা পুলিশ কে পর্যন্ত বলে কিন্তু পুলিশ তা জানতে পারে না।" হয়ত এই টাকার মালিক সামনে আসতে চেয়েছিল না। যার ফলে সব টাকা পরিষ্কার কারী পেয়ে যায়।


নাম্বার ৪ (ময়লায় পাওয়া ছবি)

চিত্রটির নামঃ থ্রের পার্সোনা।



প্রতিবার এমন ভাগ্য পরিষ্কার কারী দের হয় না। এলিজাবেথ ক্রিবশন নামের এক মহিলা ময়লায় পরে থাকা সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস পায়। এলিজাবেথ একদিন বাহিরে ঘুরতে গিয়েছিল। তখন এক জায়গায় সে অনেক ময়লা দেখতে পায়। যেখানে একটা বড় ছবি ছিল। তার কাছে ছবি টি ভালো লাগে তাই সে সেটা বাড়িতে নিয়ে আসে।


তারপর অনেক দিন পর এই ছবি কে বানিয়েছে তা সে খুঁজতে শুরু করে দেয়। সে একটু রিসার্চ করে। তারপর সে জানতে পারে সেই ছবি জনপ্রিয় মেক্সিকান চিত্রশিল্পী রুফিনো টেমোগনে ১৯৭০ সালে বানিয়েছে যার নাম "থ্রের পার্সোনা"। পরে এটা জানা যায় সেই ছবি চুরি হয়ে গিয়েছিল। অবাক করার বিষয় হলো ওই ছবি নিলামিতে ১ মিলিয়ন টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা ভারতের ৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার সমান। 


নাম্বার ৫ (মতি)


মতি



ময়লার স্তুব যার নাম স্মুকি মাউন্ট ফিলিপাইনের সমুদ্রের কিনারায় অবস্থিত। একদিন এক জেলে কালো রং এর পাথর এর মতো একটা জিনিস দেখতে পায়। তার ভিতরে থেকে সে একটা মতি পায়। সে জানত না এই মতি আসল নাকি নকল। পরে সে সেই মতি তার ঘরে এমনি রাখে। পরে একদিন তার ঘরে আগুন লেগে যায় এবং সে ঘরের সব কিছু বাহিরে বের করতে শুরু করে দেয়।


পরে টাকার অভাবে সে তার ঘরের সবকিছু বিক্রি করতে থাকে। সে সেই মতিও এক দোকানদার এর কাছে নিয়ে যায়। সেই দোকানদার যা বলে সেটা শুনে জেলের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। সেই মতির মূল্য ১০ কোটি টাকা। কেউ জানত না ঘরে ময়লা পরা মতি এত মূল্যবান হতে পারে। তাই ঘরে ময়লা পরা জিনিস ফেলার আগে একবার দেখে নিন। কে জানে হয়ত সেই জিনিস আপনাকে কোটিপতি বানিয়ে দিবে। যদি আপনি এত টাকা পান তাহলে সেই টাকা দিয়ে কি করবেন আমাদের জানিয়েন।


নাম্বার ৬ (বাথরুমের দেয়ালের পিছনে টাকা)

বাথরুমের দেয়ালের পিছনে টাকা।



নাম্বার ৬ এ আছে বাথরুম কেস। এক বাড়ির মালিক বব ক্রিট নামের এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে তার ঘর রিনোভেট করার কন্টাক্ট দেয়। কিন্তু আগে কি হতে যাচ্ছে সেই বিষয়ে বব কিছু জানত না। যখন বব ৮০ সাল পুরনো বাড়ির বাথরুম এর দেয়াল ভাঙ্গছিল তখন সে ওই দেয়াল এর ভিতরে একটি বাক্স পায়। যার ভিতরে ১৯২০ সালের চিঠি ছিল। যার ভিতরে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ছিল। ওই চিঠি র ভিতরে প্রি.পিয়ন নিউজ এজেন্সির ঠিকানা লেখা ছিল।


পরে জানতে পাওয়া যায় ওই টাকা বেট্রি.পিয়ন নামের এক বিজনেসম্যান এর ছিল। যা ট্যাক্স বাঁচানোর জন্য সে বাথরুম এর দেয়াল এ লুকিয়ে রেখেছিল। যখন বব এই টাকা পায় তখন সে বাড়ির মালিক কে বিষয় টা জানায়। সে ভাবে এই বিষয় আইনি ভাবে একে-অপরের সাথে ভাগ করে নেওয়া উচিত। কিন্তু তখন থেকে বিষয় খারাপ হতে থাকে।


বাড়ির মালিক বব কে ১০% টাকা দিতে চায়। কিন্তু বব ৪০% টাকা আবদার করে। পরে দুইজন উকিল রেখে কেস লড়াই করে। কিন্তু জজ এর সিদ্ধান্ত দুইজন কে অখুশি করে দেয়। ওই টাকা ২১ কর্মচারী এবং বাড়ির মালিক এর ভিতরে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়।


নাম্বার ৭ (গ্যারেজ)

গ্যারেজ



জন নামের এক ব্যক্তি একটি গ্যারেজ ক্রয় করে। সেই গ্যারেজ অনেক খারাপ অবস্থায় ছিল। তাই তার মনে হয় গ্যারেজ টি কম দামে পাওয়া যাবে। তাকে তার জন্য ৭৫ হাজার টাকা দিতে হয়। কিন্তু আগে তার জন্য কি অপেক্ষা করছিল সেটা হয়ত সে জানত না। সেই গ্যারেজ বিক্রি করার আগে সেটি একজন বৃদ্ধ মহিলার ছিল। সেই গ্যারেজ এর ভিতরে জন অনেক পুরনো পয়সা পায়। যা অনেক দুর্লভ ছিল এবং সেখানে অনেক পিতল এর খণ্ড ছিল।


সেই বাক্স এত ভারী ছিল যে সেগুলো উঠাতে জন এর তিনজন মানুষের প্রয়োজন হয়। এই গ্যারেজ জন এক নিলামিতে পায় যা আমেরিকার নিলামি কোম্পানি দ্বারা রাখা হয়েছিল। এই কোম্পানির টিভি সো ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই সময় শুট করার জন্য কোন ক্যামেরা ছিল না। তাই পরের বার কেউ তার গ্যারেজ বিক্রি করার আগে তার ভিতরের জিনিস দেখে নিয়েন।


নাম্বার ৮ (১৯ শতাব্দীর পয়সা)

 বিরল পয়সা



শেষ নাম্বার এ আছে বাক্সে ভরা পয়সা। একদিন এক দম্পতি তার কুকুর কে ঘুরাতে বাহিরে নিয়ে যায়। এমনি ভাবে ঘুরতে ঘুরতে তারা রাস্তার পাশে চিকচিক করা কিছু জিনিস দেখতে পায়। পরে সেগুলো তারা বাহিরে বের করার কথা চিন্তা করে। তারা যখন সেই লোহার বাক্স গুলো বাহিরে বের করে তখন তারা পুরনো পয়সা দিয়ে ভরা ৮ টি বাক্স পায়। 


এটি সাধারণ পুরনো পয়সা ছিল না। এগুলো ১৯ শ শতাব্দীর শুরু দিকে পয়সা ছিল যা অনেক বিরল ছিল। এগুলো ৫, ১০ এবং ২০ ডলার এ ভাগ করা ছিল। যা অনেক ভালো অবস্থায় ছিল। যার ভিতরে অর্ধেক এর বেশি পয়সা সাধারণ মানুষ ব্যবহার করেছিল না। ওই পয়সা এতটা বিরল ছিল যে তার মূল্য বর্তমান সময় এ ১০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা। যে দম্পতি এই পয়সা পায় তারা তাদের নাম বলতে বারণ করে দেয়। এই কারণে পরবর্তী সময় থেকে কুকুর ঘুরানোর সময় রাস্তার আশেপাশের দিকে ভালো করে নজর রাখবেন। কে জানে আপনিও হয়ত এমন গুপ্তধন পেয়ে যাবেন।


বন্ধুরা, কখনো আপনি যদি এমন গুপ্তধন পেয়ে থাকেন তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানান আর যদি পোষ্ট টি ভালো লাগে তাহলে ব্লগ টি সাবক্রাইব করে পাশে থাকুন। ধন্যবাদ।

মন্তব্যসমূহ