পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রাস্তা।
আমরা সবাই জানি, এই দুনিয়ায় গাড়ি দিয়ে ভ্রমন করা সবচেয়ে বেশি ভয়ানক। এক প্লেন দুর্ঘটনা হওয়ার চেয়ে, এক গাড়ি দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আমি এখন কথা বলছি কিছু রাস্তার কথা, যেগুলো অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। আজকের ভিডিওতে আমি আপনাদের এই দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হাইওয়ে, মাউন্টেইন হাইওয়ে এবং সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রাস্তা সম্পর্কে বলতে যাচ্ছি। যা আজকের সময় এ এই দুনিয়ায় আছে।
১)ওয়াটার রোড।
![]() |
| ওয়াটার রোড |
আজকের সময় এ বিশ্বাস করা যায় মানুষ জলের উপর দিয়ে চলতে পারে। কিন্তু আপনি কি বিশ্বাস করতে পারবেন এই ৮ কিলোমিটার এর হাইওয়ে সম্পূর্ণ ভাবে আটলান্টিক মহাসাগর এর মধ্য দিয়ে বানানো হয়েছে। এখান দিয়ে যাতায়াত করা কিছু মানুষ বলে এটি এটি দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হাইওয়ে।
নর্থ ওর নরওয়ে থেকে শুরু হয়ে এই হাইওয়ে কিছু ছোট দ্বীপ যেমন মল্টেগো একে-অপরের সাথে যুক্ত করে। ১৯৮৯ সালের আগে পর্যন্ত এখান দিয়ে গাড়ি জাহাজ এ করে নেওয়া হতো। কিন্তু ২০ শতাব্দী আসতে আসতে নরওয়ে সরকার জল এর উপরে হাইওয়ে তৈরি করার পরিকল্পনা করে। এক পাশ থেকে অপর পাশে জিনিস পাঠানো সরকারের উদ্দেশ্য ছিল না।
বরং সে একটি এমন হাইওয়ে বানাতে চেয়েছিল, যাকে সে পর্যটক কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে। তার পরিকল্পনা মতোই সবটা হয়েছে। এখানের দুই পাশের সমুদ্র দেখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় থেকে পর্যটক আসে। এখানের সমুদ্রের স্রোত এত ভয়ঙ্কর যে গাড়ি চলার সময়ই গাড়ির ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। তাই এখানে ভয়ঙ্কর রাস্তার ভিতরে একটি বলা হয়।
২)পাসেস ডুগোয়া।
![]() |
| পাসেস ডুগোয়া |
আরো একটি ভয়ঙ্কর হাইওয়ের নাম পাসেস ডুগোয়া। এই হাইওয়ে ফ্রান্স এ তৈরি করা হয়েছে। এটি প্রধান রাস্তা কে সাধারণ দ্বীপ এর সাথে যুক্ত করে। একে ১৮ শতাব্দীতে তৈরি করা হয়েছিল। ৪ কিলোমিটার এর সম্পূর্ণ রাস্তাটি সম্পর্কে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এটি দিনে মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য জেগে উঠে।
যে রাস্তা দিয়ে আপনি এখন গাড়ি চালিয়েছেন আর পিছনের দিকে তাকিয়ে এই রাস্তা ৪ কিলোমিটার গভীর জলে ডুবিয়ে গিয়েছে। তাহলে আপনার কি রকম অনুভূতি হবে? পাসেস ডুগোয়া হাইওয়ের নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট আছে। এই ওয়েবসাইট থেকে মানুষ আগেই জানতে পারে, দিনের কোন সময় এই হাইওয়ে সমুদ্র থেকে বাহিরে আসবে।
অনেক বার জল এত দ্রুত বেড়ে যায় যে গাড়ি মাঝ রাস্তায় আটকা পরে যায়। মানুষকে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এখানে কিছু উঁচু টাওয়ার বানানো হয়েছে। যার উপরে উঠে মানুষ নিজেদের বাঁচাতে পারে।
৩) আসিমা ওহাসি ব্রিজ।
![]() |
| আসিমা ওহাসি ব্রিজ |
জাপানের তৈরি এই ব্রিজ মাথসুই শহরকে সাকাইমিনা শহর এর সাথে যুক্ত করে। এই ব্রিজ সম্পূর্ণ জাপানের সবচেয়ে বড় এবং দুনিয়ার তৃতীয় সবচেয়ে বড় ব্রিজ। তার সাথে এটি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্রিজ হিসাবে পরিচিত। এটি অনেক আগে এমন ছিল না।
কিছু সময় আগে এই ব্রিজ এর দিকে কেউ নজর দেয় নি। কয়েক বছর আগে এক কোম্পানি তাদের মিনি ভ্যান এর প্রচার করার জন্য এই ব্রিজ এর ছবি ব্যবহার করেছিল। এই ভিডিও এমন ভাবে করা হয় যাতে দেখে অসম্ভব মনে হয়। এই ভাবে সে তার গাড়ি ব্রিজ এর উপরে উঠিয়ে গাড়ির শক্তি পরীক্ষা করতে চেয়েছিল। আপনি যদি ব্রিজ টি পাশ থেকে দেখেন তাহলে এটিতে আপনি কোন উঁচু বাঁক দেখতে পাবেন না।
৪) পাঙ্গি ভায়া কিসতোওয়ার রোড।
![]() |
| পাঙ্গি ভায়া কিসতোওয়ার রোড |
দেখেই আপনি কাঁপতে শুরু করবেন। এই রোড এত বেশি ভয়ঙ্কর যে, এই রোড কে দুনিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী রাস্তা বলা হয়। এই রাস্তা টি ভারত এ তৈরি করা হয়েছে। হিমালয় পর্বত এ বানানো রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আপনি জাম্মু কাশমির এবং হিমালয় প্রদেশ দেখতে পারবেন।
এই রাস্তা দিয়ে এক সময় একটি গাড়ির চলাচল করতে পারে। যদি সামনে থেকে কোন গাড়ি চলে আসে তাহলে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যে কোন একটি গাড়িকে পিছনে যেতে হয়। ঝুঁকি এখানেই শেষ হয় না। অনেক সময় সামনের মেঘের জন্য রাস্তা দেখা যায় না। তার পাশাপাশি হঠাৎ বৃষ্টির জন্য এখানে ভূমিধ্বস হয়।
এই রাস্তা সত্যি প্রাণঘাতী। প্রতি বছর কয়েক শ মানুষ এখানে মারা যায়। তবুও কিছু হৃদয় বান মানুষ এখানে যেতে ভয় পায় না।
৫) দ্যা ডেভিল নোজ ট্রেন।
![]() |
| দ্যা ডেভিল নোজ ট্রেন |
একাডোর এ অবস্থিত এই রেল লাইন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের ভিতরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ইতিহাস ১৯ শতাব্দী থেকে শুরু হয়েছে। যখন এখানের রাষ্ট্রপতি এই জায়গায় রেল লাইন তৈরি করার আদেশ দেয়। এটি বানানোর জন্য আমেরিকা থেকে মানুষ আনা হয়। তাদের এখানে রাস্তা বানানোর জন্য অনেক সমস্যার মুখামুখি হতে হয়।
তাদের ভিতরে একটি সমস্যার নাম ছিল দ্যা ডেভিল নোজ। এটি একটি ৮০০ মিটার এর খাঁড়া শিলা ছিল। যার উপরে রাস্তা বানানো প্রায় অসম্ভব ছিল। এটির সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন সুইচ ট্যাক বানানো হয়েছে। অর্থাৎ এখানে আসতেই চালাক দলের কোন মানুষ ট্রেন থেকে নিচে নামে এবং ট্যাক পরিবর্তন করে।
অবিশ্বাস্য বিষয় এই রেল লাইন এর কাজ ১০০ বছর ধরে চলে। এই ১০০ বছরের ভিতরে এখান দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়ে গিয়েছিল। ১৯৫৭ সালের পর এই রাস্তা দিয়ে কাজ করা মানুষ বন্ধ করে দেয়। ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস এবং অগ্নিগিরির কারণ এ এই রাস্তা প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। শুধু ১২ কিলোমিটারের কিছু রাস্তা রয়েছে যা আজও ব্যবহার করা হয়। এটি এখন একটি পর্যটক কেন্দ্র হয়ে গিয়েছে। ডেভিল নোজ এর দৃশ্য দেখতে দূর দূর মানুষ আসে।
৬) দ্যা সিচুয়ান ট্রিবট হাইওয়ে।
![]() |
| দ্যা সিচুয়ান ট্রিবট হাইওয়ে |
আরো একটি ভয়ঙ্কর হাইওয়ে যা চায়নায় বানানো হয়েছে। এই হাইওয়ে দিয়ে চলাচল করার সময় আপনি বড় বড় নদী, খাঁড়া শিলা দেখতে পাবেন। একে আজ থেকে ৬৪ সাল আগে বানানো হয়েছিল। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো বছরের বেশির ভাগ সময় এই হাইওয়ে বরফ দিয়ে ডাকা থাকে। তাই বরফ এর কারণে এই হাইওয়ে তে লম্বা জ্যাম লেগে যায়।
যে মানুষ এই রাস্তা দিয়ে ট্রাক চালায় তারা এক সপ্তাহের বেশি সময় নেয়। কারণ তারা জানে তাদের ট্রাক জ্যাম এ আটকে গেলে কয়েক দিন পর্যন্ত সেখানেই আটকা পরে থাকতে হবে। অসুবিধা শুধু এই টুকু নয়। এর উপরে চলার সময় অক্সিজেনের মাত্রা কম হতে থাকে। যার কারণে মানুষ তাদের সাথে অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে যায়।
৭) স্নাইল'স পাস।
![]() |
| স্নাইল'স পাস |
আর্জেন্টিনা এবং চিলের মধ্যকার বানানো এই হাইওয়ে স্নাইল'স পাস নামে পরিচিত। আপনি এটিকে দেখে এর এই নাম হওয়ার কারণ বুঝে গিয়েছেন। এর খাঁড়া মোড় এর কারণে গাড়ি সাপের মতো চলাচল করে। এই হাইওয়ে কে দুনিয়ার ভয়ঙ্কর রাস্তার ভিতরে একটি ধরা হয়।
আপনি ভাবতে পারেন এটি খাঁড়া মোড় এর কারণে ভয়ঙ্কর। আসলে তা নয়, এর পাশে সাইড ফেন্স লাগানো নেই। যা এটিকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বানিয়ে দেয়। এখানে শুধু মানুষ মজা নিতে আসে না। তার পাশাপাশি চিলি আর আর্জেন্টিনার ভিতরে জিনিস আদান-প্রদান হয়।
শীতকাল আসার পর এই রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ এই রাস্তায় বরফ এর মোটা চাঁদর পরে যায়।
৮) মিনি মায়াসো রেলওয়ে টাকামরি লাইন।
![]() |
| মিনি মায়াসো রেলওয়ে টাকামরি লাইন |
প্রথমবার দেখলে আপনি এই লাইন এ স্পেশাল কিছু দেখতে পাবেন না। কিন্তু আমি যদি বলি এই রাস্তা ফুটন্ত অগ্নিগিরির উপর দিয়ে চলাচল করে। তখন আপনার কি রকম অনুভূতি হবে? সবাই জানে অগ্নিগিরির স্বভাব যেকোন সময় পরিবর্তন হতে পারে
বছরের পর বছর ঘুমন্ত অগ্নিগিরি যেকোনো সময় জেগে গিয়ে মানুষ খেতে পারে। যেমন ২০১৬ সালের এখানের এক অগ্নিগিরি জ্বলে উঠে এবং ওখান থেকে বের হওয়া লাভা যাতায়াত করা মানুষ পরিষ্কার দেখতে পায়। এই সব দেখে মানুষ ভয় পেয়ে কেঁপে উঠে।








মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার যদি গল্প নিয়ে বা গল্পের লেখক এর সম্পর্কে কিছু জানার থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন। ধন্যবাদ।