গল্পঃ বোঝা ২ (পর্বঃ৯)

 গল্পঃ বোঝা ২

লেখকঃ সাগর দে

পর্বঃ৯

.

#পর্বঃ৮ এরপর থেকে........

.

বোঝা ২


অনেক ঘুরার পর একটা সময় সাগর ছোট একটা দোকান এ চাকরি পায়। যেইদিন সাগরের চাকরি হয় সেইদিন সাগরের খুশির সীমা থাকে না। সাগর আরহীর কাছে গিয়ে বলে উঠে..........

.

---আরহী, আমি একটা চাকরি পেয়েছি।(সাগর)

---তাই নাকি? তা কি চাকরি?(আরহী)

---হ্যাঁ। বড় কোন কোম্পানিতে না। ছোট একটা কাপড়ের দোকানে।

---কোন ব্যাপার না। চাকরি তো চাকরিই।

---হ্যাঁ, সেটাই।

---চাকরিতে জয়েন কবে থেকে?

---কালকে থেকে।

---যাক ভালো। তোমার অন্তত একটা গতি হলো।

---হ্যাঁ। অনেক খুঁজার পর আজকে আমি একটা চাকরি পেলাম।

---এখন এই চাকরি টা মন দিয়ে করো।

---হ্যাঁ, করব।

---আচ্ছা। এই চাকরি টা কি তোমার পার্ট-টাইম চাকরি নাকি ফুল-টাইম?

---পার্ট-টাইমই নিয়েছি। যাতে ভার্সিটির ক্লাস শেষ করে তারপর কাজ করতে পারি।

---ভালো ভালো। যে দোকান এ চাকরি পেয়েছো সেখানে কি আরো কর্মচারী আছে?

---না। দোকান টা আমি আর দোকানের মালিকই দেখাশোনা করব।

---অহ!

---হ্যাঁ। এখন চলো তো তোমাকে একটা ট্রিট দিয়ে আসি।

---ট্রিট? কিসের ট্রিট?

---চাকরি পেলাম সেই খুশিতে ট্রিট দিবো।

---অযথা টাকা নষ্ট করার কোন প্রয়োজন নেই।

---তাহলে?

---তাহলে তোমার টাকা তুমি নিজের কাছে জমিয়ে রাখো। ভবিষ্যৎ এ কাজে দিবে।

---কিন্তু.......

---কোন কিন্তু নয়। টাকা গুলো জমিয়ে রাখো। ভবিষ্যৎ এ আমাদের সংসার করার সময় প্রয়োজন হবে।

---আচ্ছা। তাহলে এখন কি করবে?

---চলো তোমার চাকরি হওয়ার খুশি তে আমরা একটু ওইদিকে ঘুরে আসি।

---ঠিক আছে। চলো।

.

সেইদিন আর সাগর আরহী কে ট্রিট দিতে পারল না। তবে আরহী কে সাথে নিয়ে সাগর অনেক টা সময় এইদিক সেইদিকে ঘুরে বেরিয়েছে।

.

বাড়িতে আসার পর সাগর যখন তার মাকে চাকরির কথা বলে, তখন তিনি শুনে বলে উঠে..........

.

---তোর চাকরি টা হওয়ার কারণ এ ভালে হয়েছে? অন্তত এখন নিজের খরচ নিজে চালাতে পারবি।(সাগরের মা)

---হ্যাঁ, মা।(সাগর)

---চাকরির টাকা দিয়ে শুধু নিজের খরচই চালিও না। এতদিন এই সংসার এ বসে বসে যা খেয়েছো সেইদিকেও নজর দিও।(বড় বৌদি)

---তুমি চিন্তা করো না, বৌদি। আমার চাকরির অর্ধেক টাকা আমি সংসারই দিবো।(হাসি মুখে)

---কথাটা শেষ পর্যন্ত মনে থাকলেই হয়।

---হ্যাঁ, মনে থাকবে।

---বলা তো যায় না আবার মোবাইল এর পিছনে সব টাকা খরচ করে বসো কিনা।(মেঝ বৌদি)

---না না। তা করব না।

.

অনেক দিন আগেই সাগর কে তার ভাইয়ারা মিলে একটা মোবাইল কিনে দিয়েছে। সেটা দিয়েই এখন সাগর আরহীর সাথে কথা বলে।

.

মোবাইল যখন সাগর কে তারা কিনে দেয় তার আগে তারা বটম মোবাইল কিনছিল। একদিন সাগরের দুই ভাই আর বাবা আলোচনা করে..........

.

---দেখতে দেখতে সাগর তো এখন অনেক বড় হয়ে গেল।(সাগরের বড় ভাই)

---হ্যাঁ। সেই পিচ্ছি ছেলেটা নাকি আজকে ভার্সিটির ৩য় বর্ষে পড়ে।(সাগরের মেঝ ভাই)

---আমরা তিনজন কাজ করি। অথচ সংসারের পিছনে টানতে টানতে ওকে তেমন কিছুই দিতে পারলাম না।(বাবা)

---ঠিক বলেছো, বাবা। ওর চেয়ে ছোট ছোট পোলাপান কত দামী দামী মোবাইল চালায় আর আমরা এখনো ওকে একটা মোবাইলই কিনে দিতে পারলাম না।

---বাবা, একটা কাজ করলে হয় না?

---কি কাজ?

---আমরা তিনজন অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে সাগরকে একটা মোবাইল কিনে দিলে হয় না।

---সাগরকে মোবাইল কিনে দিলে তো আর আমরা যে মোবাইল চালাই সেগুলো কিনে দেওয়া যাবে না।

---তা ঠিক বলেছো। তবে আমরা তিনজন মিলে কিছু টাকা জমিয়ে চাইলে ওকে ভালো একটা মোবাইল কিনে দিতে পারব।

---হ্যাঁ। তা পারব।

.

তারপর থেকে তারা সাগরের মোবাইল কেনার জন্য টাকা জমিয়ে রাখতে থাকে এবং একটা সময় সাগরকে কম দামের ভিতরে একটা স্মাট ফোন কিনে দেয়।

.

যদিও সাগর মোবাইল দেখে খুশি হয়েছিল। কিন্তু এত টাকা তার পিছনে খরচ হওয়ার কারণে অনেক খারাপও লেগেছিল।

.

তারপর থেকেই সাগর সেই মোবাইল দিয়ে আরহীর সাথে কথা বলতে থাকে।

.

সেইদিন সাগর চাকরি পাওয়ার পর থেকে মন দিয়ে চাকরি করতে থাকে। মাস গেলে যা টাকা পায় অর্ধেক নিজের পড়ালেখার জন্য রাখে আর বাকি টাকা সংসার এ দিয়ে দেয়।

.

সাগরের এমন কাজে তার বৌদি রা এখন তাকে কথা শুনো অনেক টা কমিয়ে দিয়েছে।

.

পড়ালেখার পাশাপাশি সাগরের চাকরি ভালোই চলছিল। দেখতে দেখতে সাগরের ফাইনাল পরীক্ষা চলে আসে।

.

সাগর ও আরহী ভালো করে পরীক্ষা দেয় এবং একটা সময় তারা দুইজন ভালো নাম্বার নিয়েই পরীক্ষায় পাস করে যায়।

.

সব কিছু ভালো করে মিটে গেলে আরহী ও সাগর একদিন দেখা করে। কিছু সময় এইদিক সেইদিকের কথা বলে আরহী সাগর কে বলে উঠে.........

.

---সব কিছু তো ভালোই ভালো মিটে গেল।(আরহী)

---হ্যাঁ।(সাগর)

---এই বার তাহলে কি করবে?

---ভালো একটা চাকরি খুঁজব।

---আর?

---তারপর তোমার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো।

---যা করার এখন একটু তাড়াতাড়ি করিও। বলা যায় না কখন আবার আমার বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়।

---তুমি কোন চিন্তা করো না। আমি খুব জলদি কোন একটা ব্যবস্থা করে নিবো।

---তাই করো। এতদিন পড়ালেখার অজুহাত দিয়ে তাদের থামিয়ে রেখেছি। এখন যদি আবার তারা আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় তাহলে মনে হয় না আর আটকে রাখা সম্ভব।

---তুমি কোন চিন্তা করো। আমি কিছুদিনের ভিতরেই একটা ব্যবস্থা করে নিবো।

.

এই সব বলে তারা সেইদিনের মতো কথা অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেয়। তারপর থেকে সাগর দোকানের চাকরির পাশাপাশি একটা ভালো চাকরি খুঁজতে শুরু করে দেয়।

.

অনেক দিন চাকরি খুঁজার পর সাগর চাকরি তো পায়ই না। উল্টো তার সাথে খারাপ কিছু ঘটে যায়।

.

#চলবে

মন্তব্যসমূহ